কপটতা।। নাসির আহমেদ কাবুল
তোমার প্রেম দেখলে মোমের মতো গলে যাই আমিও,
আগুনের কাছে মোম তো গলবেই!
এটাই নিয়ম।
শুধু গাছ ফুল পাখি কেন, বিড়াল কুকুরও
তোমার ভালোবাসা পেলে ঈশ্বরকে ভুলে যাবে!
প্রেমিক বটে তুমি!
জানতে ইচ্ছে করে এত প্রেম কোথায় পাও।
আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটে না,
তোমার বোধের প্রাচীর জুড়ে নির্বোধ লতানো গাছ বেড়ে ওঠে, ফুলে ফুলে ভরে যায় শাখা-প্রশাখা।
মধুকর আর প্রজাপতিদের নিত্য আনাগোনায় বাতাস
স্থবির দাঁড়ায় তোমার জানালার পাশে!
পথহারা পথিক আলেয়ার পিছু ছুটতে ছুটতে
তোমাকেই দেখতে পায়।
শুয়োরানী তুমি, সোনার কাঠির স্পর্শে ভাঙাও ঘুম
স্বপ্নচারি রাজকুমারী ইন্দ্রপুরীর বীণাবাদক তুমি,
তোমার সুরে লাখ লাখ দানব-অসূর মূর্চ্ছা যায়,
তোমার জাদুকরী চোখে দেখি কপটতা
দেহের ভাঁজে ভাঁজে তাচ্ছিল্যের ব্যাকরণ!
ভেতরে তোমার ভিসুবিয়াসের উত্তপ্ত গলিত লাভা!
অথচ কী নির্বিকার তুমি মক্ষ্মীরাণী, প্রাণসংহারে
মেতে ওঠো প্রেমিক পুরুষের!
তোমাকে চেনা সহজ নয়, তোমাকে বুঝতে
গোটা জীবন বাজি রাখতে হয়।
আমি তোমাকেই ভালোবেসেছিলাম,
শব্দ ছন্দে রূপকে উৎপ্রেক্ষায় রচেছিলাম
আমার না-বলা হাজার কথার মহাকাব্য,
অথচ সে ভালোবাসাকে দুপায়ে দলে চলে গেলে
কপটচারি।
কেউ তোমাকে ঠিক বুঝতে পারে না,
তুমি দেবী না কি মানবী, নাকি ইন্দ্রপুরীর দেবতাদের
তুষ্টকারী মহামায়া!
তুমি যুগে যুগে ভক্তের প্রসাদ নিয়ে যা ইচ্ছে তাই খেলে যাও নির্দয় এক জীবনখেলা।












