একটি শিক্ষামূলক গল্প এবং কিছু কথা।। নীলকণ্ঠ জয়
প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মা তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের আবেগের মূল্য দেন না, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘ইগো’ ফ্যাক্ট ভয়ঙ্করভাবে চেপে ধরে। প্রায়শই মানবিক শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলা সন্তানকে ভালোবাসার নামে নিজেরাই সেই শিক্ষা থেকে বহু দূরে থাকেন। নিচের গল্পটি অনেকেরই জানা। আবার অনেকেই প্রথম পড়ছেন।
গল্পটি একজন সৈনিকের গল্প, যিনি ভিয়েতনামে যুদ্ধ করার পর বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি ফেরার পূর্বে তিনি San Francisco থেকে তার বাড়িতে ফোন করলেন এবং বললেন, ‘বাবা! আমি বাড়ি আসছি। তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। আমি আমার সাথে আমার বন্ধুকেও আনছি।’
তার বাবা বললেন, ‘অবশ্যই! আমরাও তোমার বন্ধুর সাথে দেখা করতে চাই।’
এরপর সৈনিক তার বাবা-মা কে আরও বললেন, ‘কিন্তু একইসাথে তোমাদের আরও কিছু জানা উচিত। যুদ্ধের সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে তার এক হাত এবং এক পা হারায়। তার এখন যাওয়ার কোন জায়গা নেই। তাকে আমাদের বাসাতেই আসতে হবে।’
তখন তার বাবা বললেন, ‘ওহ! আসলেই অনেক খারাপ সংবাদ। আমরা তাকে অন্য কোথাও থাকার জায়গা পেতে সাহায্য করতে পারি।’
সৈনিক বলল, ‘না বাবা, আমি চাই সে আমাদের সাথেই থাকুক।’
বাবা বলল, ‘তুমি নিজেই জান না যে তুমি কি বলছ। তার মত একজন আহত মানুষ আমাদের জন্য বোঝা ছাড়া কিছুই না। আমাদের নিজেদের নিয়ে ভাবা উচিত। তুমি তার চিন্তা বাদ দাও। তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আস। সে তার নিজের ব্যবস্থা করে নিবে।’
এসব শুনে ছেলেটি ফোন রেখে দিল। তার বাবা আর কোন কিছু শুনতে পেল না।
কিছুদিন পর সৈনিকটির বাবা-মাকে San Francisco পুলিশ দপ্তর থেকে ফোন করা হলো এবং তারা জানালেন তাদের ছেলে একটি বিল্ডিয়ের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছে। পুলিশ এটাকে Suicide মনে করেছে। পুলিশ লাশকে Identify করার জন্য বাবা-মাকে San Francisco যেতে বললেন।
বাবা-মা San Francisco পৌঁছে ছেলের লাশ দেখলেন।ব সবই ঠিক আছে কিন্তু একটা ব্যাপার যেটা তারা আগে জানতো না। সেটি হল, তাদের ছেলের একটি হাত এবং একটি পা নেই!
গল্পটি অন্তর্জালেই পড়েছিলাম। সূত্র দিতে পারছি না এবং লেখক কিংবা সত্য গল্পটি কোন সাংবাদিক তুলে ধরেছিলেন, মনে করতে পারছি না।
আমরা আমাদের সন্তানদের ভালো মন্দ সবকিছু নিজেদের মতো করে ভাবতে পছন্দ করি এবং এটি এতটাই ভয়ঙ্করভাবে ভাবি, সেই সন্তানের নিজস্বতা বলে কিছু আছে, ভুলেই যাই। মানবিক মানুষ হিসেবে একটি সন্তান বেড়ে উঠতে চাইলে, তার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। একটা বয়স পর প্রত্যেক মানুষ তার মত প্রকাশের গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং সে চায় তার মতামতের মূল্যায়ন হোক।

নীলকণ্ঠ জয়










