১১) বঙ্গ আর বাঙ্গালী পুণ্ড্র, গৌড় আর বরেন্দ্র সব চেয়ে পুরানো জনপদ
১১ “পুণ্ড্র” ” গৌড়” এবং বরেন্দ্র অঞ্চল বঙ্গের সবচেয়ে পুরানো জনপদ (১১)
এই বরেন্দ্র অঞ্চলে কারা বাস করতো ?
কে বিচরণ করতো ?
কতদিন আগে বিচরণ আরম্ভ করে সেই নরগোষ্ঠী ?
সেই নরগোষ্ঠীর পরিচয় জানার কৌতূহল নৃবিজ্ঞানীদের আগ্রহের বিষয়। তারা খুঁজে বেড়ায় বঙ্গের পূর্ব পুরুষের মুখাবয়ব কেমন ছিল, কোন গোত্রের তারা,ভাষা কি, কি খ্যাদ্যাভাস , কোন বিশ্বাসে বিশ্বাসী ,কালচার কেমন ছিল এবং কাদের রক্ত প্রবাহ তাদের ধমনীতে ।
এই অজ্ঞাত, বিস্তৃত এবং কুয়াশায় আচ্ছন্ন বিষয় গুলি সামনে আনতে নৃবিজ্ঞানীদের নানান বিষয়ের উপরে গবেষণা চালাতে হয় ।
যে বিষয় গুলি নিয়ে নৃবিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন সে গুলো হলঃ
+ ঐতিহাসিক জাতিতাত্ত্বিক নিপাতন পদ্ধতি (Ethno-Historical Deduction Method)
এটা হল, এখন যারা বাস করছে তাদের দৈহিক
বৈশিষ্ট্য,
পেশা এবং ভৌগলিক অবস্থানের যুক্তিসিক্ত নিপাতনের মাধ্যমে ।
+ উদ্ভিদ জাতিবিদ্যাঃ
গাছপালা, লতা গুল্মের ধরন, কি শস্য বুনা হয় তার উপরে ভিত্তি করে।
+ আধুনিক DNA পদ্ধতি
+ প্রাচীন শাস্ত্রীয় গ্রন্থ থেকে এখানে বসবাস কারি মানব প্রকৃতি রাজনৈতিক ও সামরিক যে ঘটনা এখানে ঘটেছে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায় ।
এই প্রাচীন গ্রন্থ গুলো হল ১) ঐতেরেয় আরণ্যক ও
মনুসংহিতা যা সব চেয়ে প্রাচীন তথ্যসূত্র ।
২) জৈন ধর্ম গ্রন্থ “আচারঙ্গ” থেকে রাঢ় এবং বরেন্দ্রপুণ্ড্রের সংস্কৃতির আভাস পাওয়া যায় ।
৩) কৌটিল্যের অর্থ শাস্ত্র এবং “বৈয়াকরন পাণিনির কামসূত্র” এই গ্রন্থ গুলোতে এই জনপদের বিবরন লিপিবদ্ধ আছে ।
৪) বৌদ্ধ ধর্মের “বোধায়ন” এবং “আর্যমঞ্জুশ্রীমূলকল্প” এই প্রাচীন গ্রন্থে এখানকার মানুষের বিবরন আছে।
৫) “রামচরিত” এ এই অঞ্চলের আদিবাসী
পালা রাজকবি , “সন্ধ্যাকর নন্দী” দশম শতাব্দী
৬) বৌদ্ধ ধর্মের “দোহা -চর্যাগীতিকা” তে এই অঞ্চলের মানুষের পরিচয় আছে।
৭) “তারাকাত-ই- নাসিরি” এর লেখক মিনহাজ-ই-সিরাজ
8) “আইন-ই-আকবরি” এর লেখক আবুল ফজল ।
এই সব লেখকের গ্রন্থ এবং প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থ থেকে এই অঞ্চলের মানুষের যে তথ্য পাওয়া যায় তা জোড়া দিলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসে যা কিনা তাদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় এবং সংস্কৃতির প্যাটার্ন পাওয়া যায়।
চলবে












