আজ কুবের স্যারের জন্মদিন
বুনোহাঁস, ডিসেম্বর ৬, ২০২৪
দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠের একটি এই কলেজ। ১৯৯৬ সাল থেকে যেসকল শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করেছেন, তাদের সকলের নিকট শ্রদ্ধাভাজন একজন শিক্ষকের নাম কামরুজ্জামান আজাদ। যিনি একাধারে একজন শিক্ষক, কবি, গীতিকার, সুরকার এবং কণ্ঠশিল্পী। ছাত্রদের নিকট তুমুল জনপ্রিয় শিক্ষক কামরুজ্জামান আজাদ নামটি অন্তরালে পড়ে গিয়েছে ‘কুবের স্যার’ নামের আভিজাত্যে। কীভাবে এই নামটি এসেছে, শোনা যাক কামরুজ্জামান আজাদ স্যারের অন্তর্জালের পাতায় লেখা ৮ এপ্রিল, ২০১৩ সালের একটি লেখা থেকে।
‘ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোরে ১৭ বছর শিক্ষকতা জীবনে বাংলা (আবশ্যিক) বিষয়ের শিক্ষক হওয়ায় নিয়মিত শিক্ষার্থী মানেই তাদের সাথে ছিল প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সে অর্থে প্রতিবছর গড়ে ৭৫০ জন হিসেবে ১৭ বছরে সরাসরি শিক্ষক হওয়ার সুযোগ হয়েছে ১২,৭৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর; যারা ছাড়িয়ে রয়েছে সারা বিশ্বে। কতিপয় ছাত্র-ছাত্রী ব্যতীত সকলেই প্রতিষ্ঠিত। আর এখনো যারা অধ্যয়নরত তারা প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অকৃত্রিম শুভেচ্ছা!
একসময় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি পড়ানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমার জননীতুল্য সহকর্মী শ্রদ্ধেয়া ফেরেদৌস আরা ম্যাডাম (ইতি ম্যাডাম)। কেমন পড়াতাম জানিনা, তবে আন্তরিকতার সবটুকুই নিংড়ে দিতাম প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। প্রতিদানও পেয়েছি, শুধুমাত্র একটি উপন্যাস পড়ানোর সুবাদে সবার অলক্ষ্যে সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিচিতি পেয়েছি ‘কুবের স্যার’ হিসেবে। এ উপাধিটা যখন আমার কানে আসতে শুরু করলো তখন কিছুটা মর্মাহত হয়েই ছেড়ে দিয়েছিলাম ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসটি পড়ানো।
কিন্তু এখন আমার স্নেহসিক্ত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের যেসব অনুভূতি ফিরে পাচ্ছি ফেসবুকের মাধ্যমে, এখন মনে হচ্ছে আমার সে অভিমান অমুলক ছিল। আসলে আমি কিছুটা হলেও উপন্যাসের সাহিত্যরস ছাত্র-ছাত্রীদের হৃদয়ে সঞ্চারিত করতে পেরেছিলাম বলেই আমি হতে পেরেছিলান ‘কুবের স্যার’; সেটাই আমার সার্থকতা।
নতুন বোধোদয়ের প্রেক্ষিতে আমি আবারও প্রস্তুত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস পড়ানোর জন্য।
আর এ প্রস্তুতি শুধুমাত্র ‘কুবের’ নামটি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য! পুরাতন ছাত্র-ছাত্রীরা আমাকে দোয়া করো যেন আমি সফল হতে পারি!’
আজ ০৬ ডিসেম্বর কুবের স্যারের জন্মদিন। বুনোহাঁস পর্ষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা রইলো হাজারো শিক্ষার্থীর প্রিয় মুখ, প্রিয় কুবের স্যারের জন্মদিনে। সমৃদ্ধ হোক আপনার আগামীর প্রতিটি ক্ষণ। আরও প্রসিদ্ধ হোক ‘কুবের স্যার’ নামের মহিমা।












