প্রিয় বন্ধু, প্রিয় কমরেড, প্রিয় অনুজ।। নীলকণ্ঠ জয়
৩৬ ঘন্টার ক্লান্তি কাটাতে
নির্ভার চোখ বুজেছিল মেয়েটি
শেষ বারের মতো শত লজ্জায় ঢাকা হবে-
কে জানত!
ক্লান্ত শরীর চেয়েছিল একটুখানি বিশ্রাম
সেই ঘুম আর ভাঙেনি, শুধু উপহার মিলেছে
১১৩ টি কামড়ের দাগ, ১৫০ গ্রাম বীর্য!
নিরাপত্তা, সম-অধিকার
সেমিনার আর পুস্তকেই শোভা পায় !
প্রিয় বন্ধু,
স্বাধীনতা, অধিকারের কথা বলে,
নিরাপদে চলার নিশ্চয়তা দেয়
স্বাধীনতা, এতো সহজ কোনো সাবজেক্ট নয়।
ভগ্নস্তূপ থেকে স্বপ্ন জিইয়ে
রক্তাক্ত লুটিয়ে পড়ে যে শিশুটি
জীবনের দামে এখনো খুঁজে ফেরে যে স্বাধীনতা
সে আর কেউ নয়
নয় কোনো শিশু
স্বাধীনতার জন্য বুক পেতে দেওয়া ফিলিস্তিনের যিশু।
নরকের মুখে দাঁড়িয়ে দেখে লাশের উপর লাশ
নির্বাক চোখ ভ্রমেও চাহে স্বাধীনতার স্বাদ।
স্বাধীনতা মানে শতো আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন,
স্বাধীনতা মানে নির্ভয়ে বেঁচে থাকার প্রতিফলন।
প্রিয় কমরেড,
স্বাধীনতা, ফেলনা কোনো খেলনা না।
সাড়ে চারশো তাজা জীবনের বিনিময়ে
আশার ভেলায় পাল তুলেছিল যে জাতি,
চলমান স্রোতের বিপরীতে ভিন্ন স্রোতে
চলার অপেক্ষায় গুণে ছিল প্রহর…
বিস্ময় চিহ্ন এঁকে দিয়ে
সন্তানের ঔদ্ধত্যে উদোম নৃত্যে বাধ্য হলো বিবস্ত্র পিতা।
সন্তানহারা পরিবারের শোক মোছেনি তখনো
সেই শোক মাড়িয়ে
অশ্লীল নৃত্যে শুনলাম নাকি মুজিব বিদায় হলো!
৩২ পোড়ে, ১৫ মুছে যায়; লজ্জায়।
প্রিয় অনুজ,
বৈষম্যের বিরুদ্ধে মুষ্টিবদ্ধ হাতগুলো
সতত সৎ এবং স্থির থাকুক, পথ হারালে বুঝবে…
স্বাধীনতা, এতো সস্তা কোনো বিষয় নয়।
স্বাধীনতা মানে,
১৫০ গ্রাম বীর্য নয়
১৮ কেজি মাংস নয়
হাওয়া ভবন, আয়না ঘর নয়
শত শত লাশ নয়
বয়োজ্যেষ্ঠর সাথে বেহাল্লাপণা,
ইতিহাসকে অস্বীকার করা নয়।
স্বাধীনতা মানে-
‘তুমি, আমি, আমরা সকলে নির্ভয়ে এক হয়ে চলা।’












