ব্যর্থ প্রতীক্ষা।। মো. আবু রায়হান
আজও জ্যোৎস্নাস্নাত রাত্রে
একাকী নির্জনে বসি,
পূর্ণিমা রাতের সৌন্দর্য অবলোকন করি,
শতবর্ষী বৃক্ষছায়া আড়াল করে রাখে আমায়,
চাঁদের দৃষ্টি থেকে –
কিন্তু অন্তরাত্মা কখনো –
আড়াল করতে পারে না,
সে মায়াবী মুখোচ্ছবি।
আজও মেঘেরা গর্জন করে,
সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি খেলায়,
নেচে উঠে আকাশ,
প্রবাহিত হয় সুশীতল নির্মল বাতাস
বিজলির বাসরে আলোকিত করে ধরা,
শুরু হয় প্রবল বর্ষন,
কিন্তু হৃদগহীনে জমে থাকা আঁধার
আজও বিরাজমান,
আলেকিত করেনি কোন কবি।
আজও বৃক্ষরাজী ভরে যায়,
জুই, কামিনী, বকুলের সুবাসিত স্নিগ্ধ পরশে,
পথিকেরা বিশ্রাম নেয় তরুছায়ায়,
দুরদিগন্তের দুরন্ত বাতাসের চঞ্চলতায়
নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ে তীরে,
দুগ্ধপায়ী শিশুর মত,
মস্তিষ্কের নিউরণে তেমনি মিশে যায়
না পাওয়ার বেদনা।
আজও কৃষ্ণচুড়ার রঙ্গিন পাপড়িতে
ভরে উঠে চারিধার,
খোঁপায় বেলকুড়ির মালা,
পরনে লাল শাড়ী পরে
গোধুলীর আবছা আলোয়
প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে
ঢেউ তুলে যায় কত রঙ্গিলা,
নিষ্পেশিত তৃষ্ণার্ত হৃদয়,
অব্যক্ত ব্যাকুলতা নিয়ে চেয়ে থাকে
ফিরে পাওয়ায় ব্যর্থ প্রতীক্ষায়।













