স্মরণে মননে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে ক’জন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ তাদের অন্যতম। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ (Rudra Mohammad Shahidullah) (জন্ম: ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর, মৃত্যু: ১৯৯১ সালের ২১ জুন) একজন প্রয়াত বাংলাদেশী কবি ও গীতিকার যিনি “প্রতিবাদী রোমান্টিক” হিসাবে খ্যাত। তার জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে অন্যতম “বাতাসে লাশের গন্ধ”। এই কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে “রুদ্র স্মৃতি সংসদ”।
তিনি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক। ১৯৭৫ সালের পরের সবকটি সরকারবিরোধী ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা, ও অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। এছাড়া স্বৈরতন্ত্র ও ধর্মের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল উচ্চকিত। কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি কবিতাকে শ্রোতৃপ্রিয় করে তোলেন, তিনি তাদের অন্যতম।[৬] তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং “ভালো আছি ভালো থেকো”সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।
গানটি এসময়ে লেখা। উল্লেখ্য, পরবর্তীকালে এ গানটির জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচিত্র সাংবাদিক সমিতি প্রদত্ত ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরনোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন। গ্রামের বাড়ি মিঠেখালীতে গোলাম মহম্মদ, আবু জগলুল মজ্ঞু, মাহে আলম, ফারুক হোসেন, নাজমুল হক প্রমুখককে নিয়ে গড়ে তোলে গানের সংগঠন ‘অন্তর বাজাও’। মিঠেখালিতে প্রতিষ্ঠা করেন ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘অগ্রদূত ক্রীড়া চক্র’।
১৯৯০ : ১৪ ফেব্রুয়ারি সপ্তম কাব্যগ্রন্থ ‘মৌলিক মুখোশ’ প্রকাশিত হয় সংযোগ প্রকাশনি থেকে। এ সময় কবিতা ও গানের পাশাপাশি ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’, ‘একটি চলচ্চিত্র কাহিনী’ সহ লিখেছেন একাধিক গল্প, কব্যনাট্য।
১৯৯১ : নির্বাচিত হন ‘বাংলাদেশ সঙ্গীত পরিষদ’- এর প্রকাশনা সচিব। ০৬ মে গীতিকার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী তালিকায়। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্মরণকালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে (২৯ এপ্রিল) দুর্গত মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সংগীত পরিষদের ‘মানুষের জন্য মানুষ’ সংকলনটি সম্পাদনা করেন। ১৮ মে প্রকাশিত হয়। ১০ জুন পাকস্থলিতে আলসারজনিত অসুস্থতায় হয়ে ভর্তি হনঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। খানিকটা সুস্থ হয়ে ২০ জুন বাসায় ফেরেন।
২১ জুন শুক্রবার (০৭ আষাঢ় ১৩৯৮) সকাল সাড়ে সাতটায় দাঁত ব্রাশ করার সময়ে Sudden cardiac Arrest – এ আক্রান্ত হন। এর মাত্র ১০/১৫ মিনিট পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে, ঢাকার ৫৮/এফ পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা ভাষায় অসামান্য কবি রুদ্র।
প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
কবিতাগ্রন্থ
উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯)
ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম (১৯৮১)
মানুষের মানচিত্র (১৯৮৬)
ছোবল (১৯৮৬)
গল্প (১৯৮৭)
দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮)
মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)
এক গ্লাস অন্ধকার (১৯৯২)
ছোটগল্প
সোনালি শিশির
নাট্যকাব্য
বিষ বিরিক্ষের বীজ
বড়গল্প
মনুষ্য জীবন
পুরষ্কার ও সম্মাননা:
মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০)
মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮১)
একুশে পদক (২০২৪, মরণোত্তর)।












