Bunohash Banner

আজ বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন।। বুনোহাঁস ফিচার

বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী, সংগীত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আব্দুল হাদীর আজ জন্মদিন। তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন সংগীতশিল্পী। গত ছয় দশক ধরে বাংলা গানকে তিনি সমৃদ্ধ করে যাচ্ছেন। গানের সব শাখাতেই রয়েছে তার অবাধ বিচরণ। বাংলা গানের ভুবনে তিনি অনন্য এক বটবৃক্ষ। যার ছায়াতে বাংলা গান হয়েছে সমৃদ্ধ ও গতিশীল। তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২০০০ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেন।

সৈয়দ আব্দুল হাদী ১ জুলাই, ১৯৪০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বেড়ে উঠেছেন আগরতলা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কলকাতায়। তবে তার কলেজ জীবন কেটেছে রংপুর আর ঢাকায়। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন বাংলা সাহিত্যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার পিতার নাম সৈয়দ আবদুল হাই। তার পিতা গান গাইতেন আর কলেরগানে গান শুনতে পছন্দ করতেন। বাবার শখের গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনে কৈশোরে তিনি সঙ্গীত অনুরাগী হয়ে উঠেন। ছোটবেলা থেকে গাইতে গাইতে গান শিখেছেন।

আজ জীবনের ৮৪তম বসন্ত পেরিয়ে ৮৫-তে পা রাখলেন তিনি।

সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা ছিলেন ইপিসিএস (ইস্ট পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস) অফিসার। তিনি গান গাইতেন এবং কলেরগানে গান শুনতে পছন্দ করতেন। বাবার শখের গ্রামোফোন রেকর্ডের গান শুনেই কৈশোরে সংগীত অনুরাগী হয়ে ওঠেন এ শিল্পী। মূলত তখন থেকেই গাইতে গাইতে তিনি গান শিখেছেন।

সৈয়দ আবদুল হাদী দেশাত্ববোধক গানের জন্য জনপ্রিয়। পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সঙ্গীত করছেন। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবন থেকেই চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে সৈয়দ আবদুল হাদী একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় গান করেন। সিনেমার নাম ছিল ‘ডাকবাবু’। মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সঙ্গীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে সৈয়দ আবদুল হাদীর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু।

উল্লেখযোগ্য কিছু গানের তালিকা:
দেশাত্মবোধক
‘সূর্যোদয়ে তুমি’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘এই মাটি আমার মা’, ‘প্রথম ভোরে’, ‘সব কথার শেষ কথা’, ‘আমাকে কী দিতে পারো’, ‘এই গল্প নয় অল্প’, ‘আমার যা আছে সবই দেবো’, ‘বাংলাদেশের ছবি এঁকে দিও’, ‘তোরা কেউ বলিসনা রে’, ‘স্বাধীনতার এ গান’।

চলচ্চিত্র
‘চক্ষের নজর’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘জীবন একটা দুঃখ সুখের গান’, ‘যেও না সাথী’, ‘সখী চলো না’, ‘চাতুরি জানেনা মোর বধূয়া’, ‘ফুলেরই আলতো বরণ’, ‘মানুষ হইয়া জন্ম লইয়া’, ‘তুমি ছাড়া আমি একা’, ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘কী হবে গানের সুর হারিয়ে গেলে’, ‘চলে যায় যদি কেউ’, ‘কেউ কোনোদিন আমারে তো’, ‘কেন তারে আমি এতো ভালোবাসলাম’।

আধুনিক
‘কতো কাঁদলাম’, ‘ভালোবেসে রাখতে পারোনি’, ‘আমি সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে’, ‘আমার আর দেবার কিছু তো নাই’, ‘কতোদূর যাবে বলো পান্থ’, ‘সবকিছু মোর উজাড় করে’, ‘আমার ভালোবাসার স্বপ্ন’, ‘তুমি না থাকলে জীবনে আমার’, ‘আমার প্রথম দেখার সে ক্ষণ’, ‘কিছু বলো এই নির্জন প্রহরে’, ‘আমার বাবার কথা’, ‘একদিন চলে যাবো’, ‘অঙ্গে দিলাম আগুন’, ‘এসো কিছুটা সময় রেখে যাই’, ‘আমার প্রথম প্রেম’, ‘ওগো নজরুল’, ‘ভালোবাসা এমনই এক নদী’, ‘দয়াল তোর ভরসায়’।

জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ আবদুল হাদীর জন্মদিনে বুনোহাঁস ওয়েবম্যাগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা।

সূত্র:
অন্তর্জাল, যায় যায় দিন, গ্রামের কাগজ, বাংলানিউজ ইত্যাদি।