দ্রৌপদীদের দিনকাল।। নাসির আহমেদ কাবুল
খিলআঁটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ছিলাম একরাত।
সে রাতে বাতাস ছিল অচঞ্চল, মেঘ-থমথম আকাশ
জোছনার সোপান ডুবছিল গাঢ় অন্ধকার;
দ্রৌপদী তার বস্ত্র হারিয়ছিল সেই রাতে!
কেউ তা জানে না!
আমি শীতার্ত কামুকের মতো হেঁটে-হেঁটে
লক্ষ-কোটি বছর পাড়ি দিয়েছিলাম কোনো এক
অজানা শহরে!
সভ্যতার পোশাক খসে পড়ড়েছিল অনিচ্ছার নাটকে
কেউ তা জানতে পারেনি।
শত-সহস্র শতাব্দীর জমাট অন্ধকারে সেতারের
করুণ বিলাপ শুনেছিলাম…
কে যেন চুপচাপ আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল
বোধের মশালে;
উল্লাসে মেতেছিল রোম এক নষ্টার শীৎকারে!
দূর মধ্যগগনে সপ্তর্ষীমণ্ডলে ঝড় উঠেছিল সে রাতে,
ভিসুভিয়াসের গলিত লাভায় মাঠ-ঘাট-প্রান্তর
ডুবে গিয়েছিল। সরাইখানার পথ ভুলে পথিক
নরকে নিয়েছিল ঠাঁই!
আমি বদ্ধ দরজায় কান পেতে দাঁড়িয়ে আছি
বোধশূন্য এক আহত যোদ্ধার মতো,
আমার দুই কান বিদীর্ণ হচ্ছে তাল-লয়হীন
নিষ্প্রাণ কোরাসে।
দ্রৌপদীরা এখন সভ্যতার দূত হয়ে ঘুরে বেড়ায়
দেশ-দেশান্তরে!












