Bunohash Banner

বঙ্গ আর বাঙ্গালী ,শেকড়ের খোঁজে , প্রাচীন বাংলার ধর্মীয় আচার,প্রথা আর খাবার

“বঙ্গ” এবং “বাঙ্গালী” ৬ 
 
শেকড়ের খোঁজে বাঙ্গালীর (ধর্মীয় আচার প্রথা, আর খাবার )
 
ভাষা বিজ্ঞানী ভাষা পরীক্ষা করে খুঁজে ফেরেন সেই অঞ্চলের মানুষ কোন ভাষা গোত্রের ।
 
 নৃবিজ্ঞানী মিল খোঁজে আচার আচরণ ,প্রথা ,কালচার,  নৃত্য,প্রচলিত ফোক গল্প গান, ধর্ম এবং খ্যাদ্যাভাস এর মাধ্যম । 
 
বাঙ্গালীর মধ্যে এখনো প্রচলিত আছে আমাদের পুর্ব পুরুষের প্রথা এবং খ্যাদ্যাভাস।
 
আমরা যে পান্তাভাত এবং শুটকি খাই তা এসেছে Austric গোষ্ঠী থেকে এবং সাঁওতাল বা মুন্ডা জাতির মধ্যে তা এখনো প্রচলিত ।
নানা রকমের শাক দিয়ে ভাজি আর ভর্তা যা আমাদের পছন্দের খাবার তা এসেছে সেই অষ্টির্ক জাতি থেকে। 
  
বাঙ্গালির অতি প্রাচীন প্রথাঃ
 
 
বাঙ্গালীর আদিম এবং অকিত্রিম কিছু রীতিনীতি এখনো গ্রাম বাংলায় প্রচলিত । যেমন তুলসী তলায় সন্ধ্যা বাতি জ্বালানো ,  আল্পনা আঁকা । একেক গোত্রের একেক পূজা ছিল । 
 
তখন দুর্গা পূজা ছিলনা।
 
যা এসেছে বৈদিক যুগে। তবে বাঙ্গালীর প্রকৃতি পূজার অনেক বিষয় সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের মুর্তির বাহন হিসেবে এবং বৈদিক দের কে তা মানতে হয় ।  যেমন গরু,সাপ,পদ্ম,রাজহাঁস, সিংহ ইত্যাদি।
 
প্রাচীন বাঙ্গালীর বিশ্বাসঃ 
 
শীতলা,মনষা,বন দুর্গা এগুলো এখনো চল আছে। মানুষের মধ্যে যে ভয় আছে তা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বনে যাওয়ার আগে হিন্দু মুসলমান উভয়েই এই বনবিবির কাছে আশ্রয় চায়। 
প্রাচীন বাঙ্গালীর ধর্ম আচরণের মধ্যে এখনো নানান ব্রত আছে যা অনেক পুরনো এবং তা বৈদিক নয়।  যেমন পুর্নি পুকুর ব্রোত, জয় মঙ্গল ব্রোত, জম পুজো ব্রোত । 
ধর্ম ঠাকুর, চড়ক,ঘট লক্ষ্যী এবং নানান রকমের স্নান যাত্রা বাঙ্গালীর অতি প্রাচীন প্রথা বা রীতিনীতি । 
 
এই প্রাচীন আচার কে বৈদিকরা গালমন্দ করতো আর তা থেকেই জানা যায় বাঙ্গালীর আচার আচরণ কি ছিল। যা বৈদিকদের ছিল না। অবনীন্দ নাথ এর একটা বই আছে যেখানে বাঙ্গালীর ব্রতো আর রীতিনীতি সম্বন্ধে জানা যায়। 
তবে ব্রাম্ভন এবং বৌদ্ধ ধর্মে   এখন একটু একটু করে ঢুকে  গেছে।
 
বিষ্ণু, গণেশ,লক্ষ্মী এগুলো বৈদিক দেবতা হলেও কলাগাছ, ধান দুর্বা, সুপারি, পান,নারকেল, কলা এগুলো ছাড়া পূজা অসম্পুর্ন । আর এগুলোর ব্যাবহার বৈদিক ধর্ম আসার অনেক আগের । অনেক প্রাচীন প্রথা। মঙ্গল ঘট আর আলপনা আঁকা বাঙ্গালীর আদিম প্রথা। 
এই সব প্রথা আর আচরণ খুঁজতে  গিয়ে পাওয়া যায় ভুলে যাওয়া বাঙ্গালীর আসল পরিচয়। 
 
“ম্লেচ্ছ” বৈদিকের দৃষ্টিতে যা বাঙ্গালিঃ 
 
 
৩০০০ হাজার বছর আগে সনাতন ধর্ম ছিল না। 
বঙ্গের আদিবাসীদের কে গালি গালাজ করা হতো “ম্লেচ্ছ” বলে। এরা ছিল ‘অচ্ছুত’ । বলা হতো এখানে আসলে পবিত্র হতে হবে মাথায় ঘোল ঢেলে। 
 
দক্ষিণে দ্রাবিড় জাতি মোটেও তাদের ভাষা পরিবর্তন করে নাই এমন কি আর্য দের ধর্ম কেও গ্রহণ করে নাই। 
ঠিক তেমন বঙ্গের বাঙ্গালিরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে আর্য দের অনেক বাধা প্রদান করে ।আর তাই  দেখা যায় কালো অসুর কে দুর্গা দ্বারা বধ করার দৃশ্য । যা প্রমাণ করে আর্য অনার্য দের যুদ্ধ।  কৃষ্ণ ,অসুর এরাকে মনে করা হয় অনার্য তাই তাদের গায়ের রং কালো ।  
 
 
 
 
ক্রমে ক্রমে আর্য বর্তের বঙ্গ বিতৃষ্ণা কমতে থাকে । 
 
পেছনে কারন “পলিটিক্যাল  ইন্টারেস্ট” 
বৈদিক শাস্ত্রে বঙ্গবাসী দের কে বলা হয় “ম্লেচ্ছ”  দের দেশ বা অসুর দের দেশ। তার মানে এই নয় যে এখানে বর্বর দের বসবাস ছিল এবং আর্যাবতের প্রভাবে  বঙ্গবাসী সভ্য হয়েছে।
 
বাংলা তখন শক্তিশালী দেশ ছিল । পাশ্চাত্যের সাথে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। গঙ্গা বন্দর,তাম্রলিপ্ত বন্দর দিয়ে বাণিজ্য ফুলে ফেঁপে উঠেছিলো। তাই বাংলার সাথে পাশ্চাত্যের বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়েছিলো। যা জানা যায় গ্রীক আর লাতিন ঐতিহাসিকদের কাছ  থেকে।
 
বাংলায় সনাতন বৈদিক ধর্মের আগমনঃ 
 
বাংলায় প্রথমে জৈন ধর্ম আসে তারপরে বৌদ্ধ ধর্ম । খ্রিস্ট পুর্ব প্রায় ২৮৯-২৩২ BC  বাঙ্গালায় বৌদ্ধ ধর্ম আসে। খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে তখনো বৈদিক ধর্ম আসেনি। ৩৫০ AD তে গুপ্ত যুগে ব্রাম্ভন্য ধর্মের প্রসার ঘটে। দুই থেকে ২৫০০ হাজার  বছর আগে  বঙ্গে ব্রাম্ভন্য ধর্মের আগমন হয়।
 
আর ইসলাম ধর্ম আসে আরও পরে প্রায় ছয় শত বছর আগে।
 
 কাস্ট সিস্টেম ঃ 
সনাতন ধর্মে কাস্ট সিস্টেম চালু হয় এবং ব্রাম্ভন রা নিজেদের কে উপরের শ্রেণী মনে করতো এবং বঙ্গের নমঃশূদ্র   শ্রেণীকে নিচু চোখে দেখতে থাকে। তখন এই শ্রেণী দলে দলে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকে এই কাস্ট সিস্টেমের হাত  থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। 
 
বৈদিক ধর্ম আসার আগে এই বঙ্গে বাঙ্গালী বা অস্টৃক বা দ্রাবিড় জাতির যে বাস ছিল তারা প্রকৃতি পূজা করতো এবং প্রাচীন রীতিনীতি পালন করতো । 
 
বৌদ্ধ ধর্মঃ 
বৌদ্ধ ধর্ম আসে পাল আমলে । 
 
চলবে