Bunohash Banner

এ দৈন্যতা শুধুই আমার।। নীলকণ্ঠ জয়

৩০ জুলাই, ২০২৪

প্রায়শই দেশের অর্জনে গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে
অজান্তেই চোখটা ভিজে যায় আনন্দে
ভেতরটা মাবিয়া আক্তারের মতোন
ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে ওঠে বারবার!
বাজারে গিয়ে পুঁটি মাছের দামটাম শুনি প্রায়ই
সাধ্যে কুলোতে চায় না, ফিরে আসি
যদিও প্রায় প্রতিদিন, হ্যাঁ… প্রায় প্রতিদিন
তেলাপিয়া কিনে বাড়ি ফিরি।
কাল শুনলাম সেটিও দুইশো ছাড়িয়েছে…😪

স্ত্রী অবশ্য রাগ করে না
বরং একটি মাছ দুই ভাগের বদলে এখন ৩ ভাগ করে,
ভবিষ্যতে নতুন মুখ বাড়লে ভাগও বাড়বে…
মাছতো খাওয়া হলো তবু!
অন্তর্জালের কল্যাণে ও এখন সবই জানে
বুঝে গেছে বাজর দর স্বামীর পকেটের তুলনায়
ঢের বেশি ওজন নিয়ে চলে!

মাঝেমধ্যে, হ্যাঁ মাঝেমধ্যে…
ইম্পর্ট্যান্ট আত্মীয় স্বজন আসলে,
ইলিশ রুইয়ের ওধারে যাই।
মুরগির দোকানে গিয়ে ভাবতেই গলা শুকিয়ে যায়
ব্রয়লার না-কি রূপালী? রূপালী নাকি দেশি?
যদিও মান রাখতে কেটে রাখা বেদম সাইজের হাইব্রিড মুরগির লেগপিস কিনি শেষমেশ!
দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে রেখে বেশ খানিকটা তৃপ্তির হাসি হাসি
আত্মীয় বিদায়ও হলো, বাচ্চাকাচ্চারও খুশি!
এ যেনো এক ঢিলে দুই পাখি মারা!
ওদেরতো আর জানা নেই,
দৈনিক বাজারমূল্যের সূচক বাবার বেতনের চেয়ে
ঢের উঁচুতে……………….!
মাঝেমাঝে কোটার মাথায় জালি বেঁধে
…বেতন সূচকে ঝাঁকা দিই…
যদি কিছু পড়ে…!
এমন পাগলামি দেখে-
ঝরে পড়া শুকনো পাতারা দাঁত কেলিয়ে হেসে ওঠে!
লজ্জায় নিজের পা মাটিতে যায় মিশে-,
একদিন মাথাটাই উটপাখির মতো গুঁজে দেব ভাবছি।

আজ যখন তোমার কাছে গল্পটি বলছি,
তুমিও হয়তো বলছো, ‘এ দৈন্যতা তোমার।’
আধাপাকা ঘুমের ঘোরে আমি নিজেও নিজেকে অভিসম্পাত জানাই, ‘এ দৈন্যতা শুধুই আমার।’

দেশের প্রতিটি পরতে লুকিয়ে থাকা
রাশি-রাশি মাফিয়াদের হাতে জিম্মি হওয়া দেশটার দিকে
নির্বোধের মতো ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকি…
চিৎকার করে বলতে গিয়েও পারি না!
বলতে পারি না…কিছুই…
অদৃশ্য কোনো এক শক্তি কণ্ঠনালী চেপে ধরে বসে আছে!
নিজেকে বারংবার সামলে নিয়ে অভিসম্পাত দিতে থাকি মনেমনে
অভিশাপ দিই নিজের দুর্ভাগ্যকে!
নিজের মন বারবার জিজ্ঞাসু হয়ে ওঠে-
‘এ দৈন্যতা কি শুধুই তোমার?
নাকি রাষ্ট্রও আমার মতো বধির হয়েছে দিনে দিনে…!’