চোখে নামে বৃষ্টি।। স্মরণে আশা ভোঁসলে
ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অসুস্থতার খবর। রবিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যাচ্ছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছরের বেশি। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে আসে। মনে হয়, সুরের আকাশে হঠাৎই এক মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামে—চোখের ভেতর, স্মৃতির গভীরে। কারণ তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন অসংখ্য মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক সঙ্গী।
তার কণ্ঠের বৈচিত্র্য ছিল বিস্ময়কর। শাস্ত্রীয় সংগীতের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি আধুনিকতার এক অনন্য ভাষা তৈরি করেছিলেন। প্রেম, বিরহ, উচ্ছ্বাস, বেদনা—প্রতিটি অনুভূতিকে তিনি এমনভাবে প্রকাশ করেছেন, যেন গান নয়, জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।
তার মৃত্যুর খবরে ভারতসহ উপমহাদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংগীতাঙ্গনের শিল্পী, কলাকুশলী ও ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তির প্রতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য স্মৃতিচারণ, যেখানে বারবার ফিরে আসছে তার কণ্ঠে শোনা জীবনের গল্পগুলো।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতজগতে সক্রিয় থেকে তিনি হাজার হাজার গান উপহার দিয়েছেন। হিন্দি চলচ্চিত্র ছাড়াও বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবিসহ নানা ভাষায় তার গাওয়া গান শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। প্রতিটি গান যেন একেকটি সময়, একেকটি অনুভব, যা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তবুও, এই বিদায়ের ভেতরেও এক অদ্ভুত উপস্থিতি রয়ে যায়। তার গান হঠাৎ করেই কোথাও বাজে—পুরোনো কোনো রেডিওতে, কিংবা একাকী কোনো মুহূর্তে মনে পড়ে যাওয়া সুরে। তখন মনে হয়, তিনি আসলে হারিয়ে যাননি; বরং অন্য এক রূপে থেকে গেছেন আমাদের মাঝেই।
তার মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুম্বাইয়ে রাখা হবে বলে জানা গেছে এবং পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হতে পারে।
তার প্রয়াণে সংগীতের এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের অবসান ঘটলো। কিন্তু তার সৃষ্ট সুর, তার কণ্ঠের আবেশ কখনো থামবে না।
তাই আজ চোখে নামে বৃষ্টি—শুধু শোকের নয়, গভীর কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসারও। কারণ, সুর থেমে গেলেও তার গান এখনো আমাদের ভেতরে বেঁচে আছে, নীরবে, নিরবচ্ছিন্নভাবে।












