Bunohash Banner

দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে চীনের যুদ্ধে জয়লাভ এবং নেপথ্যের গল্প ।। হুসনুন নাহার নার্গিস

“একটি ইনকাম ,দুটি নিরাপত্তা, তিনটা গ্যারান্টি” বর্তমান চীনের বিখ্যাত স্লোগান ।

২০১৪ সালে চীন ঘোষণা দেয় ‘দারিদ্র দূরীকরনের’ এবং তাদের এক কথা ‘ এ থেকে জয় লাভের জন্য আমাদের যুদ্ধ করে যেতে হবে ।’

চীনের বর্তমান সরকার প্রধান সি জিনপিং বলেন ‘ Secured a comprehensive victory in the fight against poverty.’

তার আগেও মাওসেতুং এবং ডেঙ্গ সিয়াপিংও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন । আমরা এখন দেখবো কী কী তারা করেছিলেন।

মাওসেতুং এর পদক্ষেপ:

দারিদ্র দূরীকরণের যুদ্ধ বা পদক্ষেপ যে সি জিনপিং এর সময় থেকেই আরম্ভ হয়েছে তাই নয়। সর্ব প্রথমে মাও সেতুং এই পদক্ষেপ নেন।

যদিও তার পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হয়নি। ফলস্বরূপ বিরাট দুর্ভিক্ষ হয়। শিক্ষার হার কমে যায়। বহু মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। যখন কমিউনিস্ট ক্ষমতায় আসে তখন চীনে ২০% মানুষ পড়তে পারতো।এর পেছনের কারন ছিল যুদ্ধ এবং কেওয়াস ( chaos) ।

কিন্তু ১৯৮২ সালে শিক্ষার হার বেড়ে ৬৮% উঠে যায়। এর পেছনের কারন হল বিরাট লিটারেসি প্রোগ্রাম।চাইনিজ ভাষাকে সহজ করে দেয়া হয় লেখার ক্ষেত্রে ।

স্বাস্থ্যের উন্নয়নে মিলিয়ন মিলিয়ন ‘Barefoot doctors’ এর ব্যবস্থা করা হয়। মানুষের গড় আয়ু ১৯৪৯ সালে ছিল মাত্র ৪০ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৮০ সালে দাঁড়ায় ৬৫ বছর। মানুষের দীর্ঘ জীবন প্রমাণ করে অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী ভালো অর্থনৈতিক অবস্থা।

ডেঙ্গ সিয়াপিং (Deng xiaping):

ডেঙ সিয়াপিং এর নেতৃত্বে চীনের অর্থনীতি ওপেন মার্কেট পলিসি দ্বারা দ্রুততার সাথে এগুতে থাকে। তিনি ঘোষণা দেন ‘Develop the production forces’ । ১৯৭৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে চীনের অর্থনীতি বছরে ৯.৫% হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে।

ফল স্বরূপ ১৯৭৮ সালে অতিদরিদ্র পপুলেসানের ৮০%, অতি দরিদ্র থেকে নিচে নামতে থাকে এবং তা ৭% এ চলে আসে।

ডেঙ্গ আরও যে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা হলো:

১) প্রাইভেট সেক্টরের উদ্ভব ২) আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার সৃষ্টি ৩) কৃষি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো ৪) স্টক মার্কেটের উন্নয়ন ৫) বৈদেশিক বাণিজ্যের বৃদ্ধি এবং বিদেশীদের আমন্ত্রণ বিনিয়োগ করার জন্য।

বর্তমানে চীনের উদ্দেশ্য হল ০% দারিদ্র নামিয়ে আনা । ইউনাইটেড ন্যাসান যে ঘোষণা দিয়েছে ‘সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট’ সেটা পুরণ করাই চীনের উদ্দেশ্য।

দুর্নীতিকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড:

সি জিনপিং এর আমলে দেখা যায় বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী অতি দরিদ্র থেকে উঠে আসছে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। তখন তিনি ঘোষণা দেন অতিদারিদ্র ০% নামিয়ে আনার। এই সমস্ত কাজ করতে গিয়ে কেউ যদি দুর্নীতি করে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা কার্যকর করেন সরকার। কর্মচারীর কাজ সেবা দেয়া। ক্ষমতার অপব্যবহার করা নয়।

তিনি যে সমস্ত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা হল পোভার্টি বা দারিদ্র কমানোর শেষ লাইন এবং সেটা করার জন্য তিনি যে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা হলোঃ

পুনর্বাসন:

১) রিলকেসান অর্থাৎ পর্বত ঘেরা, রাস্তা ঘাট ছাড়া দুর্গম অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা ( Mass Mobilisation) । ৯.৬ মিলিয়ন মানুষকে পুনর্বাসন করা হয় ২.৬৬ মিলিয়ন বাড়ির মাধ্যমে ।

2) শিল্প কারখানা স্থাপন

৩) Eco compensation

৪) শিক্ষার উন্নয়ন

৫) সোশাল সিকিউরিটি

৬) স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানো

৭) কৃষিতে ভর্তুকি

এই গুলো বাস্তবায়নের জন্য সি জিনপিং যে ভাবে এগিয়ে গেছেন তা হলো:

সরাসরি জড়িত ( Direct involvement) যা দারিদ্র কমানোর জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে।

চীনের প্রেস এজেন্সি Xinhua এর রিপোর্ট অনুযায়ী ৩ মিলিয়ন পার্টি সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়েছে এই দারিদ্র দূরীকরনের কাজ করার জন্য।

এই ব্যাপারটিকে চীন কতখানি সিরিয়াসভাবে নিয়েছে তা দেখলেই বোঝা যায় নিচের পদক্ষেপ গুলোর জন্য।

১) প্রাথমিকভাবে $ ২৫২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয় এই ব্যাপারে।

২) ক্রমাগতভাবে তা বৃদ্ধি করে তা ১.৪ ট্রিলিয়ন করা হয়।

৩) মহিলাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ বা মাইক্রো লোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে $ ৭০ বিলিয়ন ডলারের।

সি জিনপিং এর ভিজিট:

চীনের যে সমস্ত প্রদেশ দারিদ্র পীড়িত প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং ব্যক্তিগত ভাবে ৫০ টি ভিজিট করেছেন কতখানি অগ্রগতি হয়েছে সেটুকু দেখার জন্য।

প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর সেসব অঞ্চলে যান স্বচক্ষে দেখার জন্য যাতে কোনো রকম গাফেলতি না হয়ে থাকে।

যে সমস্ত রুরাল এলাকা আছে যেখানে যাওয়া দুঃসাধ্য, উদাহরণস্বরূপ: গভীর মাউনটেন এরিয়া, যা কি-না পর্বতবেষ্টিত যেখানে রাস্তাঘাট খুব খারাপ সেখানে বসবাসকারিদের সাথে সরাসরি জড়িত হয়ে তাদের কী কী অসুবিধা, কেন দরিদ্র ,কী কী দরকার আছে আর কী নেই, তা বের করা এবং সে অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবস্থা করা ।

ট্র্যাকিং সিস্টেম:

এই সমস্ত এলাকায় ব্যবহার হচ্ছে ‘extensive expertise’ যাদের কাজ প্রত্যেকটা পরিবার এর ডাটা সংগ্রহ করে রাখা ।

এই ডাটা সংগ্রহ করে ১ লক্ষ ২৪ হাজার গ্রামে ২ লক্ষ ৯০ হাজার পরিবার পাওয়া গেছে । এদের বেশির ভাগ পরিবার গুইঝু, উনান, হেনান, হুনান, গুয়াংসি এবং সিছুয়ান প্রদেশে।

চীন সরকার প্রত্যেক পরিবারকে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধিতির মাধ্যমে যারা খুব দরিদ্র তাদের নাম ঠিকানা কালেক্ট করে রাখে। তাদের কোথায় ঘাটতি , কী কারণে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে এসব বের করে লিপিবদ্ধ করে রাখে এবং সে অনুযায়ী ব্যাবস্থা করে।

২০১৪ সালে এই উদ্দেশ্য সফলকাম করার জন্য আটশত/ হাজার পার্টি ক্যাডারকে নির্বাচন করা হয় সমস্ত দেশে কাজ করার জন্য। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২ মিলিয়ন করা হয় এই ডাটা তৈরি করা, রেকর্ড করা এবং খুঁজে করার জন্য। তারপর যখন নির্বাচন এর কাজ শেষ হয় তখন আসল কাজ আরম্ভ হয়। ৩ মিলিয়ন পার্টি মেম্বার কে সমস্ত দেশের দরিদ্র গ্রামে পাঠানো হয় কাজ করার জন্য। ২৫৫,০০০ টি টিম গঠন করা হয়।

প্রত্যেক গ্রামে একটি করে রেসিডেনট টিম থাকবে এবং তারা এই কাজ তদারক করবে।

তিনি যে শুধু বিরাট অংকের টাকা বিনিয়োগ করলেন এবং বিরাট লোকবল নিয়োগ দিলেন তাই নয়, এই বিষয়টিকে সমাজের সর্ব স্তরে পৌঁছে দিলেন এবং তারা হলেন বিভিন্ন কোম্পানি, ভার্সিটির ছাত্র ছাত্রী ইত্যাদি  সবার কাছে।

চীনের ইতিহাসে ডাইন্যাসটির পতন এবং দুর্নীতি:

চীনের বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী এবং নেতৃবৃন্দ তাদের দেশের দীর্ঘ ইতিহাস জানে। তারা জানে কীজন্য তাদের ‘ডাইন্যাসটির পতন’ হয়েছিলো এবং সমাজে উপরে উঠার প্রধান বাধা ‘দুর্নীতি’ ।

আর এই দুইটি ব্যাপার তাদের জীবনের জন্য অভিশাপ।

দুর্নীতিকারির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড:

সি জিনপিং চিন্তা করলেন যত বেশি দারিদ্র দুর করা যাবে তত বেশি দেশের ভবিষ্যৎ ভাল হবে। তাই এই দুর্নীতির বাধা দূর করার জন্য কঠিন পলিসি জারি করলেন । দুর্নীতিকারিকে কঠিন শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যাবস্থা করলেন লিথ্যাল ইঞ্জেকসান দেয়ার মাধ্যমে। চীনে এত বেশি দুর্নীতি ছিল যে স্কুলে ভর্তি বা ডাক্তার দেখানোর জন্যও ঘুষ দিতে হতো। একটা মানুষ উপরে উঠতে চাইলে পদে পদে বাধা, বুরক্রেসি, ঘুষ প্রদান এবং বড়ো পোস্টে কর্মরত মানুষদের হাবভাব দেখানো ( কাজ না করে) একটা অচল অবস্থার সৃষ্টি করে।

সি জিন পিং এগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত ভাবে দাঁড়ালেন।

একটি কার্ড যাতে বিস্তারিত লেখা থাকবে তার ইনকাম এবং তা দ্বারা তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে সময় মতো।

‘একটা ইনকাম , দুটো নিরাপত্তা, তিনটি গ্যারান্টি’ বিখ্যাত স্লোগান ( One income, Two Assurances and Three Guarantees):

মানুষের একটা ইনকাম যদি থাকে তবে সে ২ টা নিরাপত্তা পাবে । সে দুটো নিরাপত্তা হল ১) খ্যাদ্য এবং ২) বস্ত্র ।

তিনটি গ্যারান্টি হলো:

১) মেডিক্যাল সার্ভিস

২) নিরাপদ বাড়ি এবং এতে থাকতে হবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা আর বিদ্যুতের সরবরাহ

৩) বিনা পয়সায় ক্লাস নাইন পর্যন্ত ব্যাধতামূলক শিক্ষা । তারপর কিছু টাকা দরকার, তারপর কিছু অর্থ দরকার, তার পরিমাণ সামান্যই যথেষ্ট।

মানুষের টাকা দরকার বৃদ্ধ বয়সের কর্ম ক্ষমতা না থাকার সময়, নিরাপত্তার জন্য। পেনশনের ব্যাবস্থা , ফ্রি ট্রিটমেন্ট এবং নার্সিং হোম থাকলে টাকা জমানোর দরকার পড়েনা।

আর সন্তানের জন্য টাকা জমার দরকার নাই কারন তাদের ব্যবস্থা তারাই করবে তাদের ইনকাম দ্বারা।

যখন তারা ইনকাম আরম্ভ করবে, সেখান থেকেই কিছু টাকা কেটে নেয়া হবে এই সুবিধা দেয়ার জন্য। যাকে বলা হয় ইন্সুয়েরেন্স পলিসি।

চীন সরকার প্রচার চালাতে থাকেন এই স্লোগান দ্বারা আর সেটা হল ‘ এক ইনকাম , দুটো নিরাপত্তা, তিনটি গ্যারান্টি’।

প্রত্যেক নাগরিকের একটা করে কার্ড থাকবে যা দ্বারা দেখা যাবে সে কেমন ইন্সুরেয়েন্স পে করছে। কমপক্ষে ১৫ বছর কাজ করতে হবে নারী পুরুষ সব নাগরিককে সেই ইন্সুয়েরেন্স পে করার জন্য। যে সুবিধা নিবে তাকেই কাজ করে দেখাতে হবে যে সে ইনস্যুরেন্স পে করেছে।

দারিদ্র দূরীকরণের জন্য তিনি নিচের ব্যাবস্থাগুলোকে ঢেলে সাজালেন এবং যা ব্যপক পরিবর্তন আনে মানুষের জীবনেঃ

বেকার সমস্যার দূরীকরণঃ

এই সমস্যা দুর করার জন্য তিনি নিচের ব্যাবস্থাগুলো করলেন-

১) যেখানে দরিদ্র মানুষের বসবাস সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন

২) ই কমার্সের ব্যবস্থা

৩) পর্যটনের ব্যবস্থা

৪) কৃষি কাজে যন্ত্র পাতি ,বীজ, সার, অল্প খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং এগুলোতে প্রচুর ভর্তুকি দান

৫) যে সমস্ত এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ, ভূমি ধ্বসের ভয় আছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা দুরূহ সেখান থেকে মানুষকে সরিয়ে এনে নিরাপদ স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করা। যেমন কারো বাড়ি যদি থাকে টাকলা মাকান মরুভূমির মধ্যে বা হিমালয় ঘেরা সুউচ্চ পর্বতের মধ্যে যেখানে ভূমিধ্বস বেশি তাহলে জীবন চালানো যেমন কঠিন এবং নিরাপত্তাও থাকেনা। সেখানকার মানুষকে রি-লোকেসান করা।

★সরাসরি ব্যাবসা বা ই-কমার্সের ব্যবস্থা: Taobao Village

চীন সরকার ই-কমার্স সেন্টার খুলতে যেমন উৎসাহিত করেছেন তেমন ব্যবস্থা করেছেন এর বিস্তারের জন্য বহুবিধ সুবিধা যেমন ‘তাওবাও ভিলেজ’ ( Taobao village) ।

প্রায় ১ মিলিয়ন লোককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তারা ২০০,০০০ ষ্টোরের মালিক সরাসরি এখানে কাজ করে। যার ফলে গ্রামবাসী সরাসরি তাদের উৎপন্ন ফসল এখানে বিক্রি করে দিতে পারে।

২০১৯ সালে তাওবাও ভিলেজের সংখ্যা ৪,৩১০ জন্য হয়েছে এবং অনলাইন একটিভ দোকানের সংখ্যা ৬৬০,০০০ তে দাঁড়িয়েছে ।

ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এর রিপ্রেজেনটেটিভ Brett Rierson বলেন চীন কৃষিতে ইনভেস্ট করাতে দারিদ্র দূর হতে বিরাট কৃতকার্য হয়েছে।

★সোশ্যাল সিকিউরিটি চায়না:

ইন্সুয়েরেন্স পে করার মাধ্যমে চীনের নাগরিককে সামাজিক নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে । যেমন: ১) পেনশন ফান্ড, ২) মেডিক্যাল ইন্সুয়েরেন্স ৩) শিল্প কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আঘাত প্রাপ্ত হলে চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া, ৪) বেকারত্ব, ৫) মাতৃত্বকালীন ইন্সুয়েরেন্স ।

বেসিক মেডিক্যাল ইন্সুয়েরেন্স এর মাধ্যমে একজন যে খরচ হয় তার অর্ধেক পে করতে পারে। ৭৮ মিলিয়ন দরিদ্র জনসাধারণ এই ইনস্যুরেন্স পে করার মাধ্যমে ৯৯% কভার করতে পারছে।

৪০ বছর আগে চীন আফ্রিকার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মতো একটা দরিদ্র দেশ ছিল ,মাথাপিছু ইনকাম ছিল দৈনিক ১ ডলার ৪৯০ মিলিয়ন লোকের। তা থেকে ৮৮ মিলিয়ন এ নেমে আসে ।

★স্বাস্থ্য সেবাঃ

মেডিক্যাল ইন্সুয়েরেন্সের মাধ্যমে ৯৯.৯% মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে থাকে। বছরে ৫,৯৬২ চাইনিজ উয়ান খরচ করার জন্য অর্থ দেয়া হয়। দরিদ্র এলাকাতে ১১৮,০০০ হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার কাজ করছে। ৩,৭০০ নুতুন সেন্টার খোলা হয় স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য।

★শিক্ষাঃ

শিক্ষা হল দারিদ্র দূরীকরণের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষা মানুষকে আত্মবিশ্বাস দায়, ভাল-মন্দ বুঝতে সাহায্য করে, মন মানসিকতা এবং চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন আনে। কুসংস্কার দূর করে। সিজিনপিং তাই শিক্ষার আমূল পরিবর্তন আনেন। টিচার ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন গ্র্যাজুয়েশনের পর । শিক্ষা ব্যাধ্যতামুলক করেন ক্লাস নাইন পর্যন্ত এবং তারপর অল্প পয়সায় পড়াশুনা চালানো যায়। মুখস্ত বিদ্যার বদলে রিসার্চ ভিত্তিক পড়ার ধরন আনেন। হাতেনাতে শিক্ষার উপর জোর দেন। স্কুল ডিনারের ব্যবস্থা ফ্রি করেন। স্কুলকে আধুনিক করা হয়েছে ইকুইপমেন্ট দিয়ে। ১৭ মিলিয়ন রুরাল দারিদ্র পীড়িত এলাকাতে টিচার নিয়োগ দেয়া হয় ।

★ইক্যোলজিক্যাল কম্পেনসেসানঃ

রি-ফরেস্টেসন যা কিনা মরুভূমিকে গাছপালা লাগিয়ে সবুজ করা। ৪.৯৭ মিলিয়ন হেক্টর এলাকাকে কৃষি জমিতে রূপান্তর করা, ২৩,০০০ মানুষের দারিদ্র এভাবে দূর হয়।

কনফুসিয়াস এর একটা উক্তি হচ্ছে ‘একটা ভালো সরকার মানে দেশের সবার জন্য খাদ্যের ব্যাবস্থা করা এবং শক্তিশালী আর্মি থাকা, কারণ আর্মি না থাকলে সরকারের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।’

ইমপরার তায়যং লি সিনিন ( Taizong) একটা সরকারকে নৌকার সাথে তুলনা করেন। ‘সরকার সব মানুষকে নৌকায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় ,নৌকাডুবি মানে সব মানুষের ডুবে যাওয়া।’ এই উক্তিটি চাইনীজরা জানেন এবং মানেন।

দার্শনিক ভলটাইরে চীনাদের সম্পর্কে বলে গেছেন ‘The wisest and best governed people in the world’

ম্যাটিও রিসি ( Matteo Ricci ) নামক একজন মিশনারি, যিনি দীর্ঘদিন চীনে অবস্থান করেছিলেন। তিনি চীন সম্পর্কে এবং চীনের মানুষের চিন্তাধারা ,মানসিকতা নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার কাছ থেকে জেনে নিয়ে উপরের উক্তিটি ভলটাইরে বলে গেছেন ।

আমাদের দেশেও দারিদ্র আছে। কিন্তু আমারা সবাই যদি চীনের মতো পলিসিগুলো নিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি তবে সাফল্য অবশ্যই আসবে। আশা করবো বাংলাদেশেও একদিন চীনের এই নীতিগুলো অনুসরণ করবে এবং আমাদেরও সাফল্য আসবে।

তথ্যসুত্রঃ

How China defeated poverty, Arnand Bretrand

How China Reduced its Poverty ,Lucas Schmidt

Lifting 800 Million people out of poverty ,New report The World Bank

China drive to Relocate millions, Financial Times

How China reduced its poverty, The Borgen Project

The anti corruption campaign under xi jimping

ছবি: অন্তর্জাল।