বাকি ইতিহাস।। আযাহা সুলতান
এক কথা বারবার বলতে পারব না
খবরদার! আমাদের বাড়িতে এসো না
আমাদের বাড়িতে কী, আশেপাশেই এসো না
যেখানে সবার সীমানা—ওই—ওখানেই—এক চক্ষুর আড়ালে
ওখানে—দূরেই থেকো
আশেপাশে ঘুরঘুর করে নিজের সর্বনাশ ডেকো না অনিবার!
বললাম—বলেই রাখলাম আগে
মৃত্যকে ভয় করো—ডরো
আমি সমরেশ্বরের মেয়ে—মনে রেখো
দুঃসাহস সবখানে দেখাতে নেই—খাটে না
আমার নাম রণেশ্বরী জানো!
রণেশ্বরীর অর্থ বুঝ?
যাদের কুকুর-বেড়ালও যুদ্ধে পটু
আমাদের অস্ত্রাগারে দুনলা বন্দুক আছে কাঁড়ি কাঁড়ি
কী বললে?
তোপকামানেও ভয় নেই?
কোনো ভয় নেই?
হা-হা-হা…অট্টহাসিতে একেবারে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে—
মরে যেতে মন চাই!
পাহাড় ডিঙোতে আগে শেখো
হুঁচোট খাওয়াকে পাহাড় ডিঙানো মনে করা ভুল
লাফাতে না জানলে আলও পার করা মুশকিল
ডোবার মাছ দিঘির জলে যেভাবে ছুটোছুটি ও লাফালাফি করে
অতটু লাফালাফি নাচের ময়দানেও হয়
যুদ্ধক্ষেত্র আর নাচের ময়দান এক নয়
কাজেই অমন অনর্থ লাফালাফি করো না
নিজের ভালো পাগলেও বুঝে
আগে বুঝো…
ট্রোজান যুদ্ধের ভূত মাথা থেকে নামিয়ে ফেলো
আমি হেলেন নই
শ্রেষ্ঠ সুন্দরীও নই
তোমার সোনালি আপেলও নেই
হেক্টরের মতো বীরযোদ্ধা ভাইও নেই
তুমি প্যারিসও নও আর এটা মাইনরের ট্রয়ও নয়
পা ভাঙার ব্যথা যে কী—মারাত্মক যন্ত্রণা
সহ্য করতে পারবে না বোকা!
আরে! আরে! এভাবে জান দেওয়া ফরহাদ অনেক দেখেছি
রঞ্জনাকে চেনো?
আকাশের চাঁদপাড়া প্রেমিক একদিন চম্পট
চণ্ডীদাসের মতো যুগ কাটিয়েছিল পুকুরপাড়ে যে,
বিজ্ঞপ্তি দিয়েও খোঁজ মিলেনি তার আর কোনো দিন!
পত্রিকায় ইশতিহার—দেখেছ? শুনেছ বোধয়?
সেদিনেরই তো কথা—
উইঢিপির মতো পেটের দায়ে ও লজ্জায় মরতে বসেছিল রঞ্জনা
আমাদের পাশের বাড়ির রঞ্জনা!
সমস্ত দায়ভার একাই বহন করে মরে গেল আঁতুড়ঘরে
সবকিছু একদিন ফুরায়
সুতরাং ভালোবাসা রং বদলায়
আমাকে অমন বোকা মনে করছ?
আমি সহজে পিঁপড়ার মতো মরে যেতে জন্মিনি
বরফ গলে যেতে পারে রোদে—সহজে—গলে যায়
রঞ্জনা যেভাবে গলে গিয়েছিল বিদ্ধ হয়ে—সুন্দর কথার বাণে
যারা সহজে গলে যায় বরফের মতো
তারা বরবাদের ভালোবাসায় নষ্ট হয় এভাবে—বরফের মতো
হাজার সংসার না বোঝার কারণে ধ্বংস হয়—হচ্ছে ওভাবে
ভালোবাস ভালোবাস বলে মুখে ফেনা তোলো না আর
জানি জানি—তোমাদের নগরে ভালোবাসার দাম চার আনা
তবে, আমাদের বাজারে ভালোবাসা ফেকাসে হলেও বিকে যায় ভালো
তারপর দেখা যায় ভালোবাসা হলুদবরণী হয়ে বেগুনিরঙে মরে যেতে
রঞ্জনার মতো
অতএব, ভালোবাসা সবখানে আজ লালসংকেত
বুঝলে? মাথায় রেখো
অনুরোধ নয়—হাঁ, হুমকি জেনো
সমরেশ্বরের মেয়ের কোনো ভয় নেই
তুমি কিছু বলছ না কেন রাজিত? ঘনিষ্ঠ বন্ধু তোমার
ওকে একটু বোঝাও—মাথায় কিছু ঢুকুক—ভালো কিছু
এ চল চল রিমা,
কী?
আরেকটু কী শুনব? কী শোনার রইল আর বাকি?
ভেবে দেখব না—দেখেছি—
ভালোবাসার একটি মাপজোপ আছে
মাপতে গেলে বোঝা যায় কালোগোলাপের কাঁটার ফোঁড় কী জঘন্য ব্যথা!
লালগোলাপের ভালোবাসা আজকাল নেই—আছে?
অবশেষে যুদ্ধটা পাকালো সে…বাকি ইতিহাস…













