সমীকরণ।। নীলকণ্ঠ জয়
জীবনের পঙক্তি জুড়ে জটিল সমীকরণ
কারণ কিংবা অকারণ…
রঙচটা ঘাসে পেতেছি আসন-
‘ওহে দৈন্য জীবন,
মুখোমুখি তোমায় করছি নিমন্ত্রণ!’
এসো,
মুখোমুখি হই একটিবার!
অনেক হিসেব রয়েছে বাকি, অনেক কথা বলবার!
অনেক হয়েছে ডুবসাঁতার, লেনাদেনা বারংবার
অনেক হয়েছে নির্বাসনের খেলা
অনেক ভাসিয়েছি দুঃখের ভেলা।
নিথর বুকে অনেক শুনেছি শূন্য হাহাকার…!
বুকের পাঁজরে লিখে রাখা সব প্রশ্নের ঝাঁপি খুলে-
এবার না হয় সমাধান হোক, বিভেদটুকু ভুলে।
শ্মশান চিতায় জ্বলতে থাকা হৃদয়ের সব ব্যথা
ঘুম ভেঙে আজ সমুখে তোমার, দাবি শুধু সমতা!
যাক ভেসে যাক অন্যায় সব খেয়াল স্রোতের টানে
বুকের গুহায় অবরুদ্ধ বাতাস যাক উড়ে যাক দূরে
ডানাহীন শব্দ ঝাপ দিক এবার চৈতালি উনুনে,
বিষন্ন সময় যাক হারিয়ে ঘোলাটে অন্ধকারে!
সমুখে যখন তুমি আর আমি, হিসেব হবে পাকা
অন্তরালে আজ থাকবে না কিছু, বিচার সোজাসাপটা!
হতাশার দল পালিয়ে বাঁচুক নিঃশব্দে নির্জনে
নিকষ চাঁদরে লুকিয়ে থাকা কষ্টরা সব
দ্বিধাহীন যাক সরে;
নির্দয় আর নিষ্প্রাণ ধারণা ছেড়ে
ওহে নটোবর,
ওহে জীবন,
বেরিয়ে এসো মানুষ সমুদ্রে!
কবরের নিছিদ্র ফটক গলিয়ে দেহহীন শবের দল
ফিসফিসিয়ে জানিয়ে গেল,’হিসেব হলো কি বল?’
বসেছ যখন সমুখে আমার,
শুনতে হবে সবই-
‘জীবন মানে জিততে হবে, কোথায় সুখের চাবি?
জীবন মানে শ্রমে ঘামে মাখা, কীসের আঁক ছবি?
‘মানুষ বাঁচে স্বপ্নে শোন, মানুষ বাঁচে আশায়
তোমার আমার হিসাব কেন তৃপ্তিহীন নিরাশায়?’
বলছি জীবন শোন,
অনেক হলো হিসাব নিকাশ, একটুখানি থাম!
বাউণ্ডুলে জীবন আমার, থোরাইকেয়ার চলি,
আমার কথা, আমার ব্যথা রঙধনুকে বলি!
নিয়ম তোমার থাকলো পড়ে, হিসেব কর বন্ধ
ধান শালিকের সাথে থাকায় তোমার কেন দ্বন্দ্ব?
এই জীবনের সবটা কাটে বুনোহাঁসের পাখায়
ফুল,পাখিরা হেসেখেলে জীবন কেমন শেখায়!
নিক্তি মেপে জীবন চলা আর হবে না ভাই
তোমার খাতার সমীকরণ আমার জন্য ‘গোল্লা’-ই।












