নিন্দার কাঁটা। সীমান্ত প্রধান
লেখক ডা. লুৎফর রহমান নিয়মিতই যৌনপল্লীতে যেতেন। দীর্ঘক্ষণ তিনি যৌনপল্লীতে কাটাতেন। এ নিয়ে নিন্দুকেরা বাজার-হাটা-ঘাট-মাঠ সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি চরিত্রগতভাবে বাজে স্বভাবের। তার সম্পর্কে নানা নিন্দে সমাজে। কারো কারো কাছে তিনি দুঃচরিত্রের ব্যক্তি হয়ে উঠেন। তারপরও তিনি যৌনপল্লীতে যাওয়া বন্ধ করেননি। নিয়ম করেই তিনি গিয়েছেন, থেকেছেন, ফিরেছেনও নিয়ম করে। কে কী বলল আর না বলল সে নিয়ে তিনি কখনোই মাথা ঘামাননি।
ডা. লুৎফর রহমান যৌনপল্লীতে যেতেন এটা দিবালোকের মতো সত্য। কিন্তু কেন যেতেন সেখানে, সেটি নিন্দুকেরা কী জানতেন? জানতেন না। লুৎফর রহমান নিজে জানতেন তিনি ভালো কতটা আর মন্দ কতটা। যার কারণে তিনি নিন্দুকের নিন্দেকাটায় গতরের রক্ত ঝরালেও থেমে থাকেননি, যৌনপল্লীতে যাওয়াও বন্ধ করেননি। তার মতো করেই তিনি থেকেছেন।
ডা. লুৎফর রহমান লেখালেখির পাশাপাশি একজন হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। নারীবাদ তথা মানবতাবাদের সপক্ষের লেখক ছিলেন তিনি। বেগম রোকেয়ার সাথে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ভদ্রলোক নিয়মিত যৌনপল্লীতে যৌনকাম বাসনা চরিতার্থের জন্য যেতেন না, তিনি সেখানে যেতেন সেবাদানের উদ্দেশ্যে।
এখনকার যৌনপল্লীগুলোতে কিছুটা আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। এর কারণে বর্তমানের যৌনকর্মীরা স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। কিন্তু লুৎফর রহমানের সময়ে যৌনকর্মীরা এতটা সচেতন ছিল না আবার যৌনপল্লীতে চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য সচেতনামূলক কোনো কর্মকাণ্ডও ছিল না। আর লুৎফর রহমান যেহেতু একজন মানবতাকামী, এ জন্য তিনি স্বেচ্ছায় মানবতার সেবায় যৌকর্মীদের বিনে পয়সায় চিকিৎসা দিতে নিয়মিত যৌনপল্লীতে যেতেন। আর সেটিকেই নিন্দুকেরা ইনিয়ে বিনিয়ে তার চরিত্রের ওপর অনায়াসে কালি লেপে দেয়ার মহান কর্মটি করেছিলেন।
বর্তমানে লুৎফর রহমানের যুগ নেই। এখন আমাদের দেশ, সমাজ অনেক আধুনিক, তবে আমাদের সমাজে লুৎফর রহমানের সময়কার অমন প্রিয় নিন্দুকের দল এখনও রয়ে গেছে। এই নিন্দুকেরা তখনই সরব হয়ে উঠবে যখন কেউ ভালো কাজ করার চেষ্টা করবে বা করে। এরা নানাভাবে ভালো কাজকে সমালোচিত করার চেষ্টা করে। কখনো কখনো সফল হলেও অধিকাংশ সময় ব্যর্থ হয়। তবে এই নিন্দুকের ভয়ে কেউ কেউ মাঝ পথে থেমে যায়, আবার কেউ নিন্দাকাটা মাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
তবে যারা নিন্দের ভয়ে মাঝ পথে থেমে যান, তার থামবেন না। চলুন নিজের মতো করে। ভরসা রাখুন নিজের ওপর, নিজেকে জানার চেষ্টা করুন। তবে হ্যাঁ, আপনি যা করবেন, তা করার আগে একবার বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ুন, জানার চেষ্টা করুন এই কাজটি কী মানবতা বিরোধী, অথবা এর দ্বারা দেশ ও মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে কিনা? যদি উত্তর হয় ‘না’। তাহলে আপনার কাজটি নিঃসন্দেহ ভালো কাজ। আর ভালো কাজে বাধা আসবেই। মানুষ আপনাকে এজন্য মন্দও বলতে পারে। সুতরাং কে কী বলল আর কে কী ভাবলো তা না ভেবে সামনে এগিয়ে যান আপন গতিতে।












