Bunohash Banner

নীরঞ্জনা।। আযাহা সুলতান

নীরঞ্জনা!
তুমি আমাদের বঁধূর মতো—মেয়ের মতো অনন্যা—অন্যতমা
তোমাকে বহুদিন ধরে খুঁজছি এই হাটে—এই মাঠে
আমাদের বাড়ির পথ ভুলে গেলে একেবারে—কী করে? কী কারণে?
তোমার ভালোবাসা আজ এতই তামাটে পিঙ্গল হলো কীভাবে?
এখন সময়মতো আস না—আসতে পারো না আমাদের বাড়ি
আগে অসময়ে এসেও থইথই নাচতে বাঁধভাঙা জোয়ারে—আমাদের উঠোনে
তুমি যেন আজ খরতাপ অনাবৃষ্টি—তোমার কাণ্ড পরকীয়ার মতো লুকোচুরি।

নীরঞ্জনা!
ভালোবেসেছি বলে তোমাকে করতে পারিনি তখনও বারণ-নিষেধ—
করতে পারি না এখনও মানা—আমাদের বাড়িতে আর এসো না।
তখনও-এখনও তোমার ভালোবাসাবাসির মধ্যে আমাদের জীবন
তোমাকে প্রয়োজন—বড়বেশি প্রয়োজন আজ আমাদের এখানে
তোমাকে তো করিনি কখনো দূর দূর—অবহেলা—করতে পারিও না
প্রিয়তমার মতো রেখেছি পাশে—বেসেছি ভালো—বসিয়েছি কাছে
কাছের স্বজন এত দূরে গেলে চলে? গেলে কেন আজ বুঝি না।

নীরঞ্জনা!
না না, তুমি ও-কথা বলো না, বুঝেছি এবার—পরিবর্তনের পালা
তোমার ভালোবাসা আমাদের লাগি কখনো অমন ছিল না—
মোটেও ওরকম ছিল না আজ বুঝতে পারি—বুঝেছি একথা
অপূর্ব ভালোবাসায় মজেছ তুমি? কোথা ভালোবাসা বিলাচ্ছ আজ শুনি?
কার ভালোবাসা পেয়েছ তুমি ওখানে?
ভুলতে বাধ্য হলে—বেগানা ভাবছ আজ আমাদেরে
আমাদের থেকে রয়েছ লুকিয়ে দূরে—সেকারণে।

নীরঞ্জনা!
আর বন্দি হয়ে থেকো না বন্ধুর বাহুডোরে—শ্রীকান্ত-কারাগারে
নেমে এসো গো গোপন প্রাসাদ থেকে নেমে এসো সোজা আমাদের বাড়িতে
অনুরোধ করি—করি প্রার্থনা আর পালিয়ে থেকো না—ফিরে এসো ওগো নীরঞ্জনা
সোনালি ফসল ফলালে—ওয়াদা করছি—সাজিয়ে এবার লালশাড়ি লালটিপে
সাতপাকে বাঁধব-না শুধু, বাঁধব চিরবন্দনার বন্দেগির বন্দডোরে
আমাদের বাড়িতে আসা-যাওয়ার অনুমতি ছিল—আছে—
এসো আগের মতো ভালোবেসে—এসো আগের মতো বৃষ্টিমুখর বারিধারা হয়ে।