একটি প্রেমের কবিতা।। নীলকণ্ঠ জয়
১৭ জুলাই, ২০২৪
তুমি বলেছিলে একটি প্রেমের কবিতা লিখতে
কলম ধরতেই ফিরে এলো মালোপাড়ার আর্তচিৎকার!
খাতা খুলতেই ভেসে উঠলো রামু আর বাঁশখালি বারবার!
দেশপ্রেমের পদ্য লেখার মতো কালি নেই আমার!
বাজারের থলের ওজন কমছে প্রতিবার,
পকেটজুড়ে দীর্ঘশ্বাস, অভাবের ভার!
দেশটাকে চেটেপুটে খায় যারা,
দেশপ্রেমের গল্পও শুনায় তারা
আমার কালির দাম বেড়ে গেছে অনেক আগেই
তারচেয়েও বেড়ে গেছে পেটের দাম!
আমার প্রেম এখন অন্নপূর্ণার সাথে…
লড়াইটা ‘ডাল ভাতে’ বেঁচে থাকার!
তুমি বলেছিলে একটি প্রেমের কবিতা লিখতে
আমার কলম এখন খাজনার হিসাব লেখে
হিসাবের ভারে ন্যুব্জ মেরুদণ্ড
সোজা হয় না কিছুতেই।
সাতচল্লিশের দেশভাগের পূর্ব থেকেই
দারুণভাবে অভিশপ্ত আমি!
আমার কাছে দেশপ্রেম ভিটেমাটি পর্যন্ত
আমার কাছে দেশপ্রেম সংসারের চৌহদ্দি পর্যন্ত
আমার কাছে দেশপ্রেম আধিখ্যেতা ছাড়া আর কিছু নয়
আমার কাছে দেশপ্রেম প্রকাশযোগ্য কোন অধিকার নয়।
দেশটা স্বাধীন হয়েছে ঠিকই,
মাফিয়াদের ঠিকানা বদলে পূর্ব পাকিস্তান হয়েছে বাংলাদেশ
মানুষগুলোর চেহারা বদলায়নি তেমন,
স্বভাবে, মননে এখনো সেই সাতচল্লিশ ফিরে আসে
ফিরে আসে একাত্তরের দিনগুলি বারবার…
‘স্বাধীনতা’ শব্দটি গুটিকয়েক মানুষের
স্বাধীনতা হয় না সবার।
তুমি আমাকে একটি প্রেমের কবিতা লিখতে বলেছিল
আজ আমি প্রেমের কবিতা লিখছি
বাঁশখালিতে দগ্ধ হয়ে পুড়ে মরা নববধূ বাবুটি শিলের চিতার সামনে বসে!
আজ আমি প্রেমের কবিতা লিখছি মালোপাড়ার ধ্বংসস্তুপে বসে!
আজ আমি কবিতা লিখছি-
নিরীহ মানুষের আর্তনাদ ছাপিয়ে নেমে আসা
ঘোর অমানিশায় আলোর স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়ে।
কবিতারা কথা বলে নিষ্পাপ মিছিলে
কবিতারা কথা বলে শ্লোগানে শ্লোগানে।
কবিতারা কথা বলে মুক্তির
কবিতারা কথা বলে শান্তির।
কবিতারা কথা বলে অধিকারের
কবিতারা কথা বলে সংগ্রামের।
আমি প্রেমের কবিতা লিখিনি কখনো
ভগ্ন হৃদয়ে প্রেম আসেনি কখনো।












