আশ্বিনের পত্র।। নীলকণ্ঠ জয়
লিগামেন্টে চিড় ধরেছে আমার,
ভালোবাসায় নয়;
প্রিয়তমা,
হৃদয়ের বালিয়াড়ি জলমগ্ন, মনের আঙিনা নয়।
কোনো এক তপ্ত দুপুরে দেখা হয়েছিল তোমার আমার
কথা ছিলো হাতে হাত রেখে অনন্তকাল পথ চলবার।
কথা ছিলো রোদ ছায়ায় মাখামাখি জীবন হবে আমাদের
মৃদু হাওয়ায় মিলেমিশে এক হবে জলরঙ জীবনের।
স্বপ্ন ছিলো আঁধার ছাপিয়ে আলোকিত গল্প হবে সবটাই
বুঝিনি সেদিন ‘দুঃখের চেয়ে সুখ, আরও বেশি দুঃখময়!’
মনে কি পড়ে?
গোধূলি ছাপিয়ে আঁধার নেমে আসা শেষটা?
শুনতে কি পাও হৃদয়ের অনুরণন, অখণ্ড নীরবতা?
নিঃসঙ্গ প্রজাপতি আর দোলনচাঁপার কান্না?
ঝরে যাওয়া ছিন্ন পাতার অস্ফুট মর্ম বেদনা?
দেখতে কি পাও চক্রে পিষ্ট ছিন্নভিন্ন আধাঁরের বক্ষটা?
মৃত মলাটের ভাঁজে পড়ে থাকা আশ্বিনের পত্রখানা?
নিয়মের আতিশয্যে নেমে আসা কয়েকফোঁটা জল!
জলের মায়া আর মাটির অভিমান?
জানি,
গল্পটা ছিলো শেষের,
শেষটা ছিলো অখণ্ড আঁধারের!!
পরের জন্মে আমরা না হয় জাতিস্মর হবো
বিরহের জল শুকানো সমুদ্রে বালিয়াড়ি হবো;
ধোঁয়াশা ভরা গল্পগুলো নতুন কালিতে লিখে
আরো একবার হেঁটে যাব দূর বহুদূর- অনন্তের পথে।
ঝরা পাতারা বাতাসে উড়বে সেদিন
নিঃসঙ্গ প্রজাপতি আবার মেলবে পাখা,
দোলনচাঁপার কান্না যাবে থেমে
আঁধারের বক্ষজুড়ে উঁকি দেবে নীল জোছনা,
ঘুচে যাবে জলের মায়া, মাটির অভিমান
আশ্বিনের পত্রখানা আবার হবে লেখা৷
একচিলতে রোদ্দুর এসে বলবে,
‘গল্পটা এবার শুধুই তোমার,
বেদনার নয়, ভালোবাসার!’












