Bunohash Banner

পাওয়ার অফ জিওগ্রাফী

১) অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এমন জায়গায় যাকে বলা হয় “Middle of no where’ অর্থাৎ সব কিছু থেকে অনেক দূরে । কিন্তু বর্তমানে এই দেশ  টাই  হয়ে গেছে “সব কিছুর মধ্যে গুরুত্ব পূর্ণ ” । শুধু তাই নয় একেবারে স্টেজের মধ্যমণি ।
কেমন করে হল ?
এই আইল্যান্ড টি কে  বলা হয় “Down Under” । অর্থাৎ একেবারে পৃথিবীর মানচিত্রের  নিচের দিকে । এই দেশ টির আয়তন  বিরাট  । এতো বড়ো তাই   মহাদেশ বলা হয়।
এখানে যেমন আছে বিরাট এলাকা জুড়ে শুষ্ক মরুভূমি আবার তেমন আছে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট । আছে সাভানা অর্থাৎ ঝোপ ঝাড়ে ঢাকা মাঠ ।  তার সাথে  উঁচু উঁচু বরফে ঢাকা পর্বত মালা ।
Brisbane (বৃিসবেইন ) থেকে পার্থ পর্যন্ত যেতে যে দূরত্ব পার হতে হবে তা লন্ডন থেকে বৈরুত পর্যন্ত যার মাঝখানে পড়বে ফ্রান্স,বেলজিয়াম, জার্মানি,অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ,সার্বিয়া,বুলগেরিয়া, তুরস্ক এবং সিরিয়া,এতোগুলো দেশ ,একবার ভাবুন কত দূরে।
সব কিছু থেকে এতো দূরে যে ব্রিসব্রেন থেকে USA  যেতে উত্তর পূর্ব দিক দিয়ে প্রশান্ত মহা সাগরের ১১,৫০০ কি.মি  পাড়ি দিতে হবে।
আর দক্ষিণ  আমেরিকা যেতে পাড়ি দিতে হবে ১৩,০০০ কিমি পানি পথ ।
আর পার্থ থেকে পশ্চিমে আফ্রকা যেতে ভারত মহাসাগর পাড়ি দিতে হবে ৮,০০০ কিমি দূরত্ব ।
এমন কি এর  প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ড যেতে  দক্ষিণ পুর্বে ২,০০০ কিমি সমুদ্র পাড়ি দিতে হবে।
এনটারটিকা  যেতে ৫০০০ কিমি পানি পথ পাড়ি দিতে হয় ।
তবে উত্তর দিকে ?
সেই উত্তরে আছে শক্তি শালী অর্থনৈতিক দেশ চীন । হয়তো অস্ট্রেলিয়া একটি গণতান্ত্রিক দেশ আর চীনে আছে একনায়কতন্ত্র কিন্তু চীন  বর্তমানে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির  দেশ। তার সাথে আছে শক্ত মিলিটারি ফোর্স। একবিংশ শতাব্দীর অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস ।
আর অস্ট্রেলিয়ার  উন্নয়েনের জন্য দরকার চীনের সাপোর্ট । এই খানেই ‘ভু-রাজনীতির খেলা চলছে।
অস্ট্রেলিয়াই কি ভাবে বসতি আরম্ভ হয়?
গল্প টা  আরম্ভ হয় এভাবে
ব্রিটেনে যে সমস্ত অপরাধী জেলে ছিল তারাকে জাহাজে করে এখানে এনে রাখা হয় । যাতে  তারা পালাতে না পারে। সেই অপরাধী ব্রিটিশ জনসাধারণ এই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম অধিবাসী । তাদের আগে অস্ট্রেলিয়া  শুধু মাত্র অবরিযিনিদের দেশ ছিল ।
কে জানতো এই অপরাধীদের  দেশ টি একটি
গ্লোবাল ভু রাজনীতির টার্গেট হবে। যেখানে ছিল শুধু মাত্র পশ্চিমা কালচার এখন এই দেশ টি মালটি কালচারের  দেশ। পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশী মালটি কালচারের দেশে পরিণত হয়েছে।
এখন অস্ট্রেলিয়া কে ভাবতে হচ্ছে তার প্রতিবেশী দেশ গুলোর  সাথে কি ধরনের রোল প্লে করতে হবে। কি ধরনের রোল প্লে  করতে হবে বিদেশ নীতি আর নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য। পরিকল্পনা করার সময় তাকে ভাবতে হচ্ছে কার মুখ রক্ষা করে চলতে হবে। কার দিকে ঝুঁকবে কার দিকে নয় ।
বিরাট আয়তন আর এর জিওগ্রাফিক অবস্থান,  যেমন এর ভালো দিক আছে খারাপ দিকও  আছে।
কেউ যেন বাইরে থেকে এসে আক্রমণ না করে তা যেমন চিন্তা  করতে হয় ঠিক তেমন চিন্তা  করতে হয় এর পলিটিক্যাল সম্পর্ক  উন্নয়নেরও ।
শক্তিশালী নেভি দরকার তার ব্যাবসা বাণিজ্যের রুট যেন বন্ধ না হয় তার ব্যাপারে আবার এই অতি দূরত্ব  আইসোলেটেড করেছে অস্ট্রেলিয়া কে তার যত জোট আছে সেই দেশ গুলো থেকে।
৩৫ মিলিয়ন বছর আগে অস্ট্রেলিয়া এন্টারটিকার সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বীপে পরিণত হয়। তারপরে  উত্তর দিকে ধাবিত হয়ে ইন্দোনেশিয়ার কাছাকাছি হয়। প্রতি বছর ৭ সেন্টিমিটার করে এগুচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়ে পড়বে । তবে এই ঘটনা ঘটতে সময় লাগবে শত শত মিলিয়ন বছর ।
৭.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর ষষ্ট তম বৃহৎ দেশ । অস্ট্রেলিয়া কে  ভাগ করা হয়েছে ছয়টি  স্টেট্‌স এ । এর মধ্যে সব চেয়ে বড়ো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া । যা কিনা পশ্চিম ইউরোপের সব গুলো দেশকে সংযুক্ত করলে যত বড় হয় তার সমান। তারপরে এলাকা হিসেবে বড়ো ক্রমাগত ভাবে কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া এবং তাস্মেনিয়া দ্বীপ ।
অনেক গুলো টেরিটরি আছে তারমধ্যে দুইটি নরদান টেরিটরি, অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি । ছোটছোট টেরিটরি গুলো হচ্ছে কোকো আইল্যান্ড এবং খ্রিস্টমাস আইল্যান্ড  ।
অস্ট্রেলিয়ায় বাঁচতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে । প্রায় ৬০,০০০ বছর আগে এখানে মানব জাতির পদার্পন হয়। তারাকে জানতে হয়েছে কোন টা  পয়জনেস কোনটা নয়। ৩০,০০০ বছরের মধ্যেই  সমস্ত মহাদেশে মানুষ ছড়িয়ে  পড়েছিলো ।
বেশীর ভাগ চ্যালেঞ্জ গুলো এর ভূমির গঠন প্রণালি আর আবহাওয়া নিয়ে । বেশীর ভাগ এলাকা বিরাট ,সমতল আর উসর সমতল ভূমী । মাত্র ছয় পারসেন্ট ভূমী ৬০০ মিটারের উপরে । মহাদেশ হিসেবে এর আবহাওয়া কে বলা যায়  বেশী উগ্র । যেমন আছে কঠিন ধূসর মরুভূমি তেমন আছে রেইন ফরেস্ট । এই মরুভূমিতে সামারে টেম্পারেচার উঠে যায় ৩৮ ডিগ্রি সেন্তিগ্রেট আর কোনো পানি নাই। কেউ যদি সেখানে বিপদে পড়ে তাকে উদ্ধার করতে আশপাশে কাউকে পাওয়া যাবে না।
১৮৪৮ সালে Ludwig Leichhardt এর নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে চালায় পুর্ব থেকে পশ্চিমে । তাদের সঙ্গে ছিল দুইজন অ্যাবরজিন্যাল গাইড,  ৫০ টি বলদ,  ২০টি গাধা ,  এবং সাত টি ঘোড়া ।সাথে ছিল  অভিযানের  সরঞ্জাম – কিন্তু তারা কোথায় হারিয়ে গেল কেউ জানে না । তারা উধাও হয়ে যে গেল আর ফিরে আসে নি। এখনো মানুষ তারা কে খুঁজে বেড়ায় । বলা হয় এটা  তাদের কপালের  লিখন।
এতোই দুর্গম এসব স্থান এটাই তার প্রমাণ।
হাজার হাজার বছর ধরে এই ভূগোলেই ঠিক করে দিয়েছে মানুষের কার্য কলাপ কোথায় হবে।
আদিবাসীরা যখন আউটব্যাক ‘ওয়াকা বাউট’ নামে ধর্মীয়  যাত্রা করতো, তখন ইউরোপীয় বসতি স্থাফনকারীরা উপকূল ঘেঁষেই থাকত -আর এই অভ্যাস আজও চলছে।
এখানে বলে রাখা ভালো ‘আউটব্যাক’ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ধুসোর শুষ্ক মরুভূমি এলাকা । ‘Walkabout’ হচ্ছে একটি ধর্মিয় যাত্রা ।সে সময় আদিবাসীর ছেলেরা বয়োপ্রাপ্ত হলে একা একা এই সব জায়গায় ঘুরে  বেড়ায় প্রকৃতির সাথে মেলবন্ধন করতে।
ব্রিসবেন থেকে শুরু হয়ে পুর্ব উপকুলের মাঝামাঝি পর্যন্ত, তারপরে উপকুল ধরে ঘুরে সিডনি , ক্যানবেরা, মেলবোর্ন   হয়ে দক্ষিণ উপকূলের অ্যাডিলেড পর্যন্ত একটি অর্ধচন্দ্রাকার জনবহুল অঞ্চল আছে । এই অর্ধচন্দ্রের পশ্চিমে শহরতলি আর স্যাটেলাইট শহরগুলো পরে, যে গুলো ভেতরের দিকে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত ।
ভূগোলেই ঠিক করে দিয়েছে দেশের জনবসতির নকশা । অস্ট্রেলিয়ার মাঝ খান টি থাকার  অযোগ্য । তাই আদিবাসী ছাড়া সবাই উপকূলে গোল করে বসেছে ।
” এখানে ম্যাপ থাকবে ” পৃষ্ঠা ৭
একশো বছর আগে সিডনি ইউনিভার্সিটির ভূগোলের প্রতিষ্ঠাতা গ্রিফিথ টেইলর সবাইকে খেপিয়ে দিয়েছিলেন ।তিনি বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভু-সংস্থানের জন্য ২০০০ সালের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ২০ মিলিয়ন এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি সাহস করে বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি স্থায়ী বসবাসের জন্য ‘প্রায় অকেজো ‘ এই কোথা তখন দেশদ্রোহিতা মনে করা হত।
প্রেস চিৎকার করে বলেছিল jeremiah মানে অশুভ ভবিষ্যতবাণী  আর সাংবাদিক রা বলেছিল প্রকৃতি সব ঠিক করে দিবে।
তিনি কিন্তু ঠিক বলেছিলেন ১০০ বছর পরেও অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ২৬ মিলিয়ন । সিডনি থেকে ৩২০০ কিমি দূরের ডারউইন, অথবা পার্থ পর্যন্ত উরে গেলে একটা শহরও চোখে পড়বে না ।
জনসংখ্যার  প্রায় ৫০% মানুষ থাকে মাত্র তিনটি শহরে – সিডনি ,মেলবোর্ন, আর ব্রিসব্রেনে । কাকতালীয় না, এই তিনটাই Murray -ডার্লিং রিভার বেসিন এলাকায়।
মারি আর ডার্লিং নদীর অববাহিকা দক্ষিণ -পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইউরপিয়বসতিগুলকে টিকিয়ে রেখে ছিল ।
 সমুদ্রের বড়ো জাহাজগুলো এখানে ঢুকতে অ্যারে না । যার কারনে ১৯ শতকে এটা দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া করা কঠিন
ছিল । তখন নদী পথে ছোটো পণ্য বাহী নৌকার জন্য ব্যাবহার হতো । কিন্তু বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীর অনেক শাখা শুকিয়ে যেতো,আর কিছু নৌকা উপরের দিকে  আটকে যেত ।
তারপরেও মারি আর ডার্লিং নদী ব্যবস্থা সেই উর্বর জমি গুলোতে পানি দিয়েছে ,যা বহু প্রজন্ম ধরে অস্ট্রেলিয়ান দের খাবার জুগেয়েছে । এটা না থাকলে প্রথম বসতি স্থাপন কারীরা সৈকত পেরিয়েই আর আগাতে পারত না ।
অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসকে আরেকটা ঔপনিবেশিক দেশ -USA এর সাথে তুলনা করা যায় । USA এর পুর্ব উপকূলে উর্বর জমিতে বসতি গড়ে তারপরে ভেতরের দিকে বিষটার করেছিল । কিন্তু APPALACHIAN পর্বতমালা পেরিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো নদী ব্যাবস্থা মিসিসিপি নদী বেসিন পেয়ে গিয়েছিলো ,যা কিনা পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর জমি গুলোর কিছু অংশ ।
অস্ট্রেলিয়ায় একই আকারের বিরাট একটি অঞ্চল ছিল ,কিন্তু সেখানে পরিবহন,কৃষি আর স্থায়ী বসতি টিকিয়ে রাখার মত কিছুই ছিল না আর এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকেো আমেরিকা থেকে অনেক বেশী বিচ্ছিন্ন ছিল । এটা ঊক থেকে ১৯,০০০ কিমি দুরে ছিল কিন্তু USA তে হওয়া তেরোটা কলোনি ইউরোপ থেকে মাত্র ৫,০০০ কিমি দূরে ছিল ।
এটা ভুল ধারনা জে ব্রিটেনের কুক ১৭৭০ সালে এই মহাদেশ আবিষ্কার করেছে। আবিষ্কার হয়ত করেনি কিন্তু এখানে অবতরণ করেছিল প্রথম ১৬০৬ সালে নেদারল্যান্ড এর একটি জাহাজ  Duyfken থেকে Willem janszoom উত্তর অস্ট্রেলিয়ার তিরে নামেন । আর তিনিভেবে ছিলেন তিনি নেও Guines দ্বীপে আছেন । স্থানীয় দের সাথে ঝামেলার পরে তাড়াতাড়ি চলে
যান । এর পরে আরও কয়েকটি ইউরোপীয় অভিযান এসেছিল কিন্তু কেউ দেশ তির ভিতরে ঘুরে দেখেনি ।
যখন কুক এলেন তকন তিনি মনে করেছিলেন সেই গ্রীক ‘কিংবদন্তির terraAustralis incognita” পাওয়া গেছে।
কি সেঁতা ? ১৫০ খ্রিস্টের সময় গ্রিক মানচিত্র বিদ Claudius Ptolemy এর  ধারনা  ছিল পৃথিবী যেহেতু গোল তাই এর উপরের দিকে মাটি থাকলে ভারসাম্য বজায় রাখতে নিচের দিকেও মাটি থাকতে হবে। তা না হলে পৃথিবী উলটে যাবে। ইউরোপ তাই এখনো অস্ট্রেলিয়াকে “ডাউন  আন্ডার” বলে থাকে।
কুকের মানচিত্র অবশ্যই ptolemy এর চেয়ে অনেক ভালো
ছিল । তিনিই প্রথম ইউরোপীয় যিনি পূর্ব উপকূলের স্থলভাগে প্রথম পা রাখেন । তিনি Botany Bay তে নামেন যা ছিল
সিডনি অংশ । সেখানে তিনি সাত দিন ছিলেন । এবং ব্রিটিশ কলোনির পথ খুলে দেন।
Usa পেয়েছিল বিশাল মিসিসিপি আর অস্ট্রেলিয়া পেয়েছিল মৌসুমি মারি আর ডার্লিং এর মউসুমি নদী। তাই USA দ্রুত বৃদ্ধি পায় আর অস্ট্রেলিয়া ধীরে । তার সাথে দূরত্বের সমস্যা।
এই ভূগোলেই অস্ট্রেলিয়ার ভ্যাগ্য ঠিক করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ভূপ্রকৃতি ঠিক করে দায় মানুষ কোথায় থাকবে।
১০০ বছর আগে ভূগোলবিদ Griffith Taylor বলেছিলেন এখানে ২০ মিলিয়নের বেশী মানুষ থাকবে না কিনু আজও সেখানে ২৬ মিলিয়ন মানুষ।
এর কারন এর ভুপ্রকৃতি । আমেরিকা এর ভু প্রকৃতি জোয় করে বড়ো হয়েছে কিন্তু অস্ট্রেলিয়া প্রকৃতির কাছে হেরে গিয়েছে। পানি,দুরত্ত আর মরুভূমির কারনে আজও একটি উপকুলের দেশ
হয়ে রয়েছে।
Captain Cook এর প্রথম সমুদ্র যাত্রায় HMS Endeavour
জাহাজে ১৭৬৮-৭১ সালে Right Hon SirJoseph Banks
ছিলেন প্রধান বিজ্ঞানী । তিনি দুই সভ্যতার সংঘর্ষ আর তাদের পার্থক্য  নিয়ে ভাবছিলেন । তিনি বলেছিলেনঃ “এভাবেই বাশ করে এই মানুষ গুলো ,আমি প্রায় বলে ফেলেছিলাম এরা সুখী মানুষ। অল্পে সন্তুষ্ট ,না আসলে প্রায় কিছুই নাই। ধন-সম্পদের চিন্তা বা ইউরোপিয়ানরা যেটাকে “প্রয়োজনীয় জিনিস” বলে সেটার থেকে এরা অনেক দূরে । এদের কিছুই ছিল না ,একেবারে বেসিক জীবন।
এদের দেখলে বোঝা যায় মানুষের চাহিদা আসলে কত কম । অথচ আমরা ইউরোপীয়রা সেটা কে বাড়ীয়ে এমন পর্যায়ে  নিয়ে গেছি যা শুনলে এই মানুষ গুলো অবিশ্বাস করবে।
তাদের এই অভিজ্ঞতা ব্রিটেন কে থামাতে পারেনি বা তারা  শুনে নি ।
তখন তিনি ব্রিটেন কে পরামর্শ দেন Botany Bay তে একটা Penal Colony যাকে বলে কায়েদি কলোনি বানাতে ।
উদ্দেশ্য ছিল ২ টাঃ
১) ব্রিটেনের জেলখানায় অতিরিক্ত ভিড় কমানো
২) এমন একটা স্থানে অপরাধীদের পাঠানো যেখান থেকে আর তারা যেন ফিরে আসতে না পারে।
৩) অপরাধী পাঠানোর নামে মানুষ পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়া কে  উপনিবেশ  বানানোর নাটক .natok
এর সঙ্গে ছিল আর একটা ভাবনা আর সেটা  হল ব্রিটেন থেকে ১৭,০০০ কিমি দূরে ব্রিটিশ পতাকা তুলা । অস্ট্রেলিয়াকে কলোনি বানানো ।
এর পরে জাহাজ ঠিক করা হলো ,কয়েদিদের জড়ো করা হলো । আর প্রথম জাহাজ টি ১৭৮৭ সালেড় ১৩ই মে পোর্টসমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করে। ১৭৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি তাড়া বোটানি বে তে পৌঁছে । ১১ টি জাহাজে মোট ১৫ই  জন মানুষ ছিল ৭৩০ জন কয়েদি -৫৭০ জন পুরুষ আর ১৬০ জন নারী । বাকিরা ছিল মুক্ত মানুষ। বেশীর ভাগ নৌবাহিনীর লোক ।
দুই সপ্তাহ পর দায়িত্বে থাকা গভর্নর আরথার ফিলিপ ঠিক করলেন জায়গাটি বাস  করা জন্য অনুপযুক্ত । তাই তিনি সবাইকে কয়েক কিমি উত্তরে নিয়ে গেলেন -যেটা  এখন কার সিডনি হারবার । নুতুন এই জায়গার  সৈকতে ,ব্রিটিশ রাজার নামে দাবি করা এই জমি তে তিনি একটা ভাষণ দেন । নৌবাহিনীর সার্জন জর্জ ওয়রগান লিখেছেনঃ “গভর্নর কঠোর নির্দেশ দিলেন যেন স্থানীয়দের কোন ভাবে কষ্ট দেওয়া বা বিরক্ত না করা হয়”
এখানে ছিল  মানবিকতা দেখানো আর সেই মানবিকতার আড়ালে নিজেদের সাম্র্যজ্য  বাড়ানো । তখন ব্রিটেনে অল্প স্বল্প অপরাধ করলেও তারা  কে শাস্তি স্বরূপ এই নুতুন কলোনিতে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। উদ্দেশ্য এখানে তাদের নিজেদের লোক
বৃদ্ধি করা। ব্রিটিশ পতাকা পুঁতে সাম্রাজ্য বাড়ানো ।
“স্থানীয় দের সাথে বন্ধুত্ব পুর্ন ব্যাবহার করতে হবে ” এই নির্দেশ ছিল Worgan এর । কিন্তু সেই নির্দেশ পালন হয় নি।
আদিবাসীদের মধ্যে বেশ কিছু গ্রুপ ছিল তাদের দুই গ্রুপ ‘Eora’
আর ‘Darug’। সিডনীতে এদের সাথে কথা হয় গভর্নর ফিলিপের । এমন ভাব দেখানো হয় যে তাদের সাথে ব্যাবসা বাণিজ্য করতে চায় ফিলিপ ।
আদিবাসীরা মোটেও বুঝতে পারিনি এটা তাদের ছিল একটা সাজানো নাটক। উদ্দেশ্য ছিল তাদের ল্যান্ড নিয়ে নেওয়া ।
অনেক দিন ধরে ধারনা ছিল aborigini রা একটাই গ্রুপ । কিন্তু তা নয়। তাদের মধ্যে আলাদা আলাদা ট্রাইব আছে যাদের ভাষা আলাদা।
যেমন কুইনল্যান্ডে “Murri”, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে আছে ‘ ‘Nunga’ গ্রুপ, তাসমানিয়া তে আছে Palawa গ্রুপ ।
১৭৮৮ সালে মত অবিরিজিনির সংখ্যা ছিল ২,৫০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ । কিন্তু এই জনসংখ্যার মধ্যে হাজার হাজার মারা যায় “Frontier War” এর যুদ্ধে । যে যুদ্ধ চলমান ছিল  বিশ শতক পর্যন্ত ।
এই যুদ্ধে ২,০০০ কলোনি করতে চাওয়া  মানুষ মারা যায় কিন্তু তার চেয়ে শত শত গুন  বেশী লক্ষ্য লক্ষ্য Aborigini মৃত্যু বরন করে।
এটা একটা  গল্প ।
যে গল্প বিষাদময়। যে গল্পের বিষয়বস্তু হচ্ছে এবেরেজনি রা ‘মানুষ নয়’ ,তাদের কোন অধিকার নাই। তাদের ল্যান্ড থাকতে পারে না। অর্থাৎ ব্রিটেন থেকে আগত কলোনি করতে আসা মানুষরা নিজেরাকে এতোই সুপিরিয়র ভাবতো  যে তাদের কাছে এই আদি বাসি এবিরিজিনিরা “মানুষ বলে গণ্যই”  হতো  না।
১৮৫৬ সালে মেলবোর্নের ‘Argus’ নিউজ পেপারের একজন জার্নালিস্ট যার নাম “Edward Wilson’  তিনি একটি আর্টিকেল লিখেন । এই আর্টিকেলে তিনি লিখেন পৃথিবী থেকে তারাকে ঝেটিয়ে বিদায় করতে চেয়েছিল তারা। একেবানে নির্মূল করতে কুকুরের মত তাদের উপর গুলি চালানো হয় । তারা এই কষ্ট ভুলতে মদে ডুবে থাকত । পেছনের কারন অশান্তি । তাদের শরীরে জীবাণু ঢুকিয়ে শরীরের হাড্ডি পোঁচিয়ে ফেলত । হাজার হাজার শিশু এতিম হয়ে পড়লে তারাকে এতিম খানায় অথবা সাদা পরিবারে পালক হিসেবে রাখা হতো । উদ্দেশ্য তাদের নিজেদের ক্রিস্টি কালচার আর ভাষা নষ্ট করা।
জোরপুর্বক এক জাতির সংস্কৃতি অন্য জাতির উপরে  চাপিয়ে দেওয়া এবং এবিরিজিনি দের সংস্কৃতি নষ্ট করা ছিল তার
উদ্দেশ্য ।  উদ্দেশ্য  সাদা সমাজের সাথে মিসিয়ে দেওয়া ।
নিজেদের ল্যান্ডে তারা আউটকাস্ট হিসেবে থাকতো । পৃথিবী জুড়ে চলছে দুর্বলের উপরে  সবলের অত্যাচার । ছলে বলে কৌশলে ।
কলোনি বানাতে কোথাও বলা হয় ব্যাবসার কথা, কোথাও মানুষের মাঝে ডিভিশন করা, কোথাও নিজেদের লোকের মধ্যে টাকা দিয়ে বা  পদের লোভ দেখিয়ে বা ক্ষমতা দেওয়া হবে এই লোভের আশ্বাস দিয়ে     অপেক্ষা কৃত শক্তিধর দেশ বা জাতি নিজেদের স্বার্থ  সিদ্ধি করেছে বা উপনিবেস বানিয়েছে এবং তা হয়েছিল এবেরিজিনিদের সাথেও ।
“তাদের নিজেদের জমিতেই তারা বহিরাগত ,আর দ্রুতই তাদেরকে পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে “
হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার অনেক পরেও ,১৯ শতক আর ২০ শতক জুড়ে তাদের জীবন একই ভাবে দুর্বিষহ ছিল। ১৯১০ সাল থেকে বেঁচে থাকা Aboriginal জাতিগুলোর বাচ্চা দের কে পরিবার থেকে কেরে নেওয়া হতো ।তাদের সংস্কৃতি মুছে ফেলে সাদা সমাজের সাথে মিশিয়ে দেওয়াই  ছিল উদ্দেশ্য ।
এই প্রথা বন্ধ হয় ১৯৭০ সালে। ততদিনে চুরি হয়ে যাওয়া প্রজন্মের সংখ্যা ১ লাখের চেয়ে বেশী হয়ে গেছে। । তারা ভোট দেওয়ার অধিকার পায় ১৯৬২  সালে। এবং ১৯৬৭ সালে তারা অস্ট্রেলিয়ার সংবিধান তাদের কে জনসংখ্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দায়  । একটা  গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান বদলিয়ে  এবেরিজিনি দের  কে আদম শুমারিতে গণনা করা হয় এবং এর ফলে তারা সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে  থাকে।
নাগরিক অধিকার আন্দোলনকারির নাম Faith Bandler ১৯৬৫ এ বলেছিলেন “অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের কুকুর আর গরুর হিসেব রাখে ,কিন্তু কত Aboriginal আছে সেটা  জানে না।
একটা গণভোট হয় । সেই গণ ভোটে ৯৩% মানুষ ভোট দায় এবং তার মধ্যে ৯০% মানুষ হ্যাঁ বলেছিল । অনেকেই এই ভোট কে একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা বলে মনে করে। যদিও সাথে সাথে কোন বড়ো পরিবর্তন আসে নি। তবে এটা প্রমাণ হয় মানুষ সমতা চায় । সেই সমতার লড়াই এখনো চলছে ।
আজকে অনেক Aboriginal ছেলে মেয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে, মধ্যবিত্ত হচ্ছে, আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার সব জায়গায় কাজ করছে । কিন্তু এখনোও তাদের গড় আয়ু কম অন্য অস্ট্রেলিয়ান দের থেকে।
জাতীয় গড়ের তুলনায় তাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অসুখ , শিশু মৃত্যুর হার বেশি  ,জেলে যাওয়ার হার বেশী, আর আছে মানসিক সমস্যা।
কিছু কিছু কমিউনিটিতে বেকারত্ব ,মদ্যপান, আর অসুখ খুব
বেশি  ।
১৯৭০ সাল থেকে গ্রাম থেকে সহর-নগরে মানুষের ধল নাম্বার কারনে এই বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি আরও বেড়েছে।
‘First Nations’ মানে আদিবাসীদের প্রতি মানুষের মনোভাব ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। ।কিছু প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে এই পরিবর্তন বোঝা যায় ।
সেই পদক্ষেপের একটি হল ১৯৯০ সালে Ayers Rock এর নাম বদলে দিয়ে Uluru রাখা হয়। এটা করা হয়েছে Anangu মানুষদের আসল ভাষায় নামতা স্বীকার করার জন্য। তাদের ভাষাকে সন্মান দেওয়ার জন্য। কারণ তাদের তাদের কাছে এটি একটি পবিত্র জায়গা । আর ২০০২ সালে নামতা পুরোপুরি বদলে Uluru/Ayers Rock করা হয়।
ক্ষমা চাওয়াঃ
বিরাট ব্যাপার । শেষ পর্যন্ত তারা ২০০ বছরের বেশী সময়  ধরে চলা  ধ্বংস,অবহেলা ,নির্যাতন এর  দায় স্বীকার করে Aboriginal জনগণের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চান ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী Kvin Rudd ।
এতো বঞ্চনার পরেও ২০ শতকে Aboriginal
  দের জনসংখ্যা বেড়েছে। ১৯২০ সালে এই দশকে তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০,০০০ । আর এখন Aboriginal এবং Torres Strait Islander মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষ , এরা মূলত queensland, new South Wales,Western Australia ar Northern Territory তে থাকে। Torres strait islander রা জাতিগত ভাবে Aboriginal দের থেকে আলাদা ।
আগে কয়েকশ ভাষা ছিল । এখন তার বেশীর ভাগ হারিয়ে গেছে। যে গুলো টিকে আছে তা ৫০,০০০ মানুষ বলতে পারে।
উপনিবেশিকরা ক্রমাগত ভাবে UK থেকে জাহাজ ভরে কয়েদি আনতে থাকে । উদ্দেশ্য মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। ১৮২৫ সালে অভিযাত্রী রা Sydney এর পশ্চিমে ব্লু মাউন্টেণ নামে এক পাহাড়  কে ‘পার করা অসম্ভব’ বলে মনে করতো সেটাও তারা পার করে ফেলে।
নিজেকে পর  ভাবাঃ
এবং আরও সমস্যা আজও আছে ।
গ্রাম থেকে শহরে আসার কারনে এখানে তারা “নিজেকে পর  ভাবা” শুরু হয়েছে। এটা এক মানসিক সমস্যা ।
সন্মান ফেরানোর চেষ্টা চলছে। সাদা দের বসতি ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকতে থাকে ।
সরকার ক্ষমা চাইলেও Aboriginal রা আজও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকুরীতে পিছিয়ে । তবে তাদের জনসংখ্যা বেড়েছে । এবং Uluru
এর নাম ফিরিয়ে দিয়ে সন্মান জানানোর চেষ্টা হচ্ছে।
ততদিনে  ব্রিটেন থেকে কয়েদী আসা কমলে অন্য মানুষ আসা আরম্ভ হয়। নতুন মানুষরা বেশির ভাগ নুতুন দুনিয়ায় নুতুন জীবন খুঁজতে আসা অভিবাসী । ১৮৫১ সালে  মত মানুষের সংখ্যা  ৪৫০,০০০ হয়।
ভাগ্য পরীক্ষা করতে বিদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ আসতে  শুরু করে। তাদের বেশির ভাগ মানুষ ব্রিটেন থেকে ।কিন্তু চীন, উত্তর আমেরিকা, ইতালি, জার্মানি, পোল্যান্ড এবং আরও কিছু দেশ থেকে মানুষ আসা আরম্ভ হয় । ১৮৭০ সালের দিকে মত জনসংখ্যা  ১.৭ মিলিয়নে পৌঁছায় এবং দেশটায় ধীরে ধীরে জাতিগত আর সাংস্কিৃতি ভাবে বৈচিত্র্যময় হতে শুরু করে।
প্রথম দিকে জারা এসেছিল তারা ছিল অবিবাহিত পুরুষ । ‘Wild ওয়েস্ট ‘ এর মত একটা পরিবেশ প্রথমে করতে চাইলেও ধীরে ধীরে সমৃদ্ধির কারনে অভিবাসনের ধরন পালটায় । তখন দরকার হয় দক্ষ কারিগর, ব্যবসায়ী, আর আইনজীবী,হিসাব রক্ষক এর মত পেশাদার মানুষ । তারা নিয়ে আসে পরিবার ।
এরা সবাই  মিলে নতুন অস্ট্রেলিয়ান চরিত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
কিন্তু সোনা খুঁজতে আসা লোকরাই বন্ধুসুলভ স্বভাব তৈরি করেছিল । কারন  রুক্ষ কাদাযুক্ত খনি এলাকায় পুরনো দের মত ভদ্রতা -নম্রতার কোন দাম ছল না। খনি কর্মি রা ছিল স্বাধীন তার সাথে ছিল দলবদ্ধ মনোভাব এবং তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা কমিয়ে দিয়েছিল ।
বিংশ শতাব্দীর কাছে আসার আগে অস্ট্রেলিয়া একটি আধুনিক দেশ হয়ে উঠেছিল ।যদিও সেখানে তখন অনেক গুলো কলোনি দিয়ে গঠিত অঞ্চল ছিল ।
আমরা দেখতে পাই অস্ট্রেলিয়া আর “শুধু ব্রিটিশ কলোনি” রইল না। এখানে নানান দেশের মানুষ এসে বসবাস শুরু করতে থাকলো এবং তাদের ছিল নানান পেশার  অভিজ্ঞতা । তা ছাড়া খনি কর্মী রা বন্ধু সুলভ স্বভাব সৃষ্টি করল । যা কিনা “ব্রিটিশ দের কম মানতে শিখিয়েছে”
কলোনি গুলো প্রায় ছিল আলাদা আলাদা দেশের মত । তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক খুব কম ছিল । তারা নিজেদের অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাস্ত থাকতো । বসতির মধ্যে দূরত্ব একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।
নদী গুলো ছিল যাতায়াতে জন্য অনুপযুক্ত । তাই পশু না থাকার জন্য মালপত্র টেনে টেনে নিয়ে যেতে হত যা ছিল কষ্ট দায়ক ।
শুরুর দিকে পরিবহন ব্যবস্থা প্রত্যেক বন্দরকে কেন্দ্র গড়ে উঠে । বন্দর থেকে মালপত্র ভেতরে পাঠানো হতো আবার মাতৃ দেশ UK
তে চলে যেত অস্ট্রেলিয়ায় উৎপাদিত মালামাল। দূরত্ব এক স্থান থেকে আর এক স্থান এত দুরে ছিল তাই রাস্তা উপকুল দিয়ে না যেয়ে ভিটরের দিকে গিয়ে ছিল । যেহেতু রাস্তা ঘাটের সুযোগ সুবিধা এতো কম ছিল যে প্রত্যেক তা কলোনি আলাদা সত্তা হিসেবে উন্নত করতে থাকে।
তারপরে ক্রমাগত ভাবে পরিবর্তন হতে শুরু করে যোগাযোগের উন্নয়নের মাধ্যমে ।
প্রথমে শুরু হয় রেল যোগাযোগ । ১৯ শতকের দ্বিতিয়ার্ধে একটা ছোট রেলওয়ে ব্যাবস্থা গড়ে উঠে এবং উপকূলের সাথে সংযুক্ত হয় রেল যোগাযোগ । এর ফোলে আলাদা অঞ্চলগুলো একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পায় এবং “যুক্তরাষ্ট্র” হওয়ার ধারনা তৈরি হ
 Commonwealth of Australia:
১৮৯৯ সালে একটা গণভোট হয় তা পাসও হয় । অনেকে বিরোধিতা করেছিল । তবে ১৯০০ সালের ৫ই জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে commonwealth of Australia আইন  1900 পাশ হয়। ১৯০১ সালের ১ জানুয়ারি ছয়টি ব্রিটিশ কলোনি এক হয়ে
Commonwealth of Australia গঠন হয় । মানুষ আনন্দ উৎসব আরম্ভ করে এবং সিডনির রাস্তায় ৫লাখ লোক রাস্তায় নেমে আনন্দ করে।
তবে অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি স্বাধীন হয় ১৯৮৬ সালের অস্ট্রেলিয়া আইন পাশ হবার পরে।
এর আগে ছিল সেলফ গভর্নিং
কলোনি । আত্ম নিয়ন্ত্রেনের জন্য এটা ছিল একটা বিরাট পদক্ষেপ ।
এই সময়ে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ লাখ। তবে অস্ট্রেলিয়া ছিল একটা সহর কেন্দ্রিক সমাজ ।
১৮৫১ সালে গোল্ড রেসের কারনে পুরো পৃথিবী থেকে মানুষ এসে জনসংখ্যা আর সংস্কৃতি বদলে দায়  । আধুনিক অস্ট্রেলিয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।
খনি কর্মী রা ছিল পাইওনিয়ার । তারাই ব্রিটিশদের সব কথা শুনতে চায় নি । এর ফলেই ব্রিটেন থেকে পৃথক হতে সুবিধা হয়।
প্রথম দিকে uk থেকে বেশিরভাগ অভিবাসী এসেছিল । কিন্তু তারা যেখান থেকেই আসুক না কেন সবাই ছিল সাদা। ১৯০১ সালে সিডনি আর মেলবোর্ন এর জন সংখ্যা  ছিল ৫ লাখের
মত ।
Immigration Restriction Act: শুধু মাত্র সাদা মানুষকে নেওয়ার আইন
যাকে বলা যায় “White Australia” নীতি । কারন যখন সাদা ছাড়া অন্য কালারের মানুষ আসার জন্য আবেদন করতো তখন তাকে বলা হত ৫০ শব্দের একটি অনুচ্ছেদ লেখো । অর্থাৎ সেই ভাষা তাদের জানা না থাকায় আবেদন খারিজ হয়ে যেতো । আর ভাষা তা কর্মকর্তা ঠিক করতো । এই পরীক্ষা নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য আগে থেকে সিদ্ধান্ত কে আইনি সিল দেওয়া। আবার আইনের ভাষা সরাসরি কাগজে লেখাও ছিল না।
এই আইনের মাধ্যমে অ-সাদা ইমিগ্রান্ট হতে চাওয়া মানুষ দের নাগরিত্ব থেকে বঞ্চিত করা। তা ছাড়া অনাগরিক ব্যাক্তি কোন অপরাধ করলে  তারাকেও বের করে দেওয়া হত ।
“Advance Australia Fair” অস্ট্রেলিয়ার যে জাতীয় সঙ্গীত তার সাথে এই কথার মিল ছিল না।
জনগণ আর রাজনীতিবিদ দের বেশির ভাগের মত ছিল এই সীমাহীন মরুভূমি শুধু সাদা মানুষদের মধ্যে বিশেষ করে ব্রিটিশ সাদা মানুষদের সাথে ভাগ করা উচিৎ ।
অ-সাদা দের কি ভাবে আসা বন্ধ করা যায় তার জন্য অভিবাসীদের কে ইউরোপীয় ভাষা দিয়ে লিখতে বলা যাতে  তারা ফেল করে । উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, চীনের লোক দের বলা হয় পর্তুগীজ ভাষা দিয়ে লিখো তারপরে বলা হত ফ্লেমিস ভাষা দিয়ে লিখো । উদ্দেশ্য ফেল করানো । যেন তারা ঢুকতে না পারে । কারন  শুধু মাত্র তারাই থাকবে।
ভণ্ডামি টা এখানেই  জাতীও সঙ্গীতে আছে ” সবাই মিলে দেশ গড়ি”  কিন্তু আইন বলছে “শুধু সাদা ,ব্রিটিশ সাদা “। অর্থাৎ অভিবাসী আটকানোর ফাঁদ  ।
ঔপনিবেশিক যুগ থেকে যারা বের হয়েছিল তাদের কে খুব নেতিবাচক ভাবে দেখা হত অস্ট্রেলিয়ায় । তাদের মধ্যে  চীন,  জাপান,ইন্দনেসিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্ন  দেশ থেকে আগত  মানুষ ।তাদের ধারনা ছিল তারা  শুধু কম মজুরির কাজ করবে।   আর তাদের ধারনা ছিল এরা তাদের ‘জাতিগত পবিত্রতা’  নষ্ট  করছে ।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরে অস্ট্রেলিয়া তখনো অনেক শ্রমিকের দরকার ছিল । যদিও তখন প্লেনের ভাড়া ১২০ পাউন্ড  ছিল কিন্তু মাত্র ১০ পাউন্ড  প্লেন ভাড়া দিয়ে তাদেরকে ব্রিটেন থেকে  আনা হয় ।
১৯৪৭ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষ ‘ডাউন আন্ডার’ এর উদ্দেশ্যে রওনা  দায়। শুধু সুযোগ নয় ব্রিটেনের শীত থেকে বাঁচতে রোদের খোঁজে । প্রথমে তাদের কষ্ট হয় । হোস্টেলে থাকে। ছোটোখাটো যে কাজ পায় তাই করে। কম বেতন পেলেও  উন্নত জীবন যাত্রা  পায়।
তারাকে ‘পমস’ বলা হত । ইমিগ্রান্টের  কাছাকাছি একটা শব্দ ।
প্রথমে শুধু ব্রিট  রা আসে।  পরে  ধীরে ধীরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নানান দেশের মানুষ আসতে
থাকে । তার মধ্যে ছিল গ্রিক, ইতালিয়ান, জার্মান। ১৯০০ সালের শেষ দিকে এই কমুনিটিতে যোগ দায়। এরপরে ১৯৫৬ সালে বিপ্লবের পরে অনেক হাঙ্গেরিয়ান ,তারপরে ১৯৬৮ সালে সোভিয়েট দখলের পরে চেক রা আসে । ধীরে ধীরে দক্ষিণ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকেও মানুষ আসতে থাকে।
White Australia policy ১৯৭০ পর্যন্ত ছিল এবং এশিয়ান দেশ গুলি এটাকে খুব খারাপ চোখে দেখতো । জনসংখ্যা যে ভাবে বদলায় নীতি সিথিল হয় কারন  তাদের শ্রমিকের দরকার হতে থাকে। আর অন্য  কারন  হল বিশ্ব রাজনীতি এবং এশিয়ান প্রতিবেশী দেশের  চাপ ।
নানা রকম দেশ থেকে মানুষ এসে অস্ট্রেলিয়া  বৈচিত্র্যময় দেশে পরিণত হয়। ১৯৭০ সালে সাদাদের অস্ট্রেলিয়া নীতি শেষ হয় ।
পুর্ব দিক থেকেও  মানুষ এসেছে । অনেকে এসেছে নির্যাতন থেকে বাঁচতে । ১৯৭০ এর দশকে হাজার হাজার বোট পিপল ভিয়েতনাম থেকে আসার অনুমতি পায়।  আর ১৯৯০ দশকে Yugoslav (যুগস্লাভ)  যুদ্ধের  শরনার্থিরা আসে।
এর ফলে একটা বিশাল সাংস্কিৃতির পরিবর্তন হয়। আগে যেটা ছিল মূলত ব্রিটিশ ,বা অ্যাংলো কেলটিক সমাজ সেটা  এখন মালটি কালচারাল দেশে পরিণত হয়েছে ।
আধুনিক অস্ট্রেলিয়া যেমনটা আমরা এখন দেখি তা হল ১৯০ টি দেশের ঐতিহ্য আছে এমন মানুষের দেশ । এবং এখানে পৌছুতে খুব দ্রুত সময় লাগে ।
২০১৬ এর আদমশুমারি তে মোট জনসংখ্যার ২৬% মানুষ বিদেশে জন্ম গ্রহণ করা । তারা কোথা থেকে এসেছে তা দেখলেই বোঝা যায় পৃথিবী ২০ শতকের  শুরু থেকে নীতি ,মনোভাব আর বিশ্ব অর্থনীতির  কত পরিবর্তন হয়েছে ।
বিদেশে জন্মানদের মধ্যে ব্রিটিশরা এখনো সবচেয়ে বেশি টপ ১০ এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড ৮.৪% চাইনিজ ৮.৩% ইন্ডিয়ান  ৭.৪% , ফিলিপিনো ৩.৮% এবং ভিয়েতনামিজ ৩.৬% টপ দশের ৫টিই এশিয়ান দেশ।
১৯০১ সালে যা ঘটেছিলো সেখান থেকে বর্তমান অবস্থা অনেক দূরে । ১৭৮৮ সাল থেকে আরও দূরে । শুধু সময়ের দিক দিয়ে নয় । অন্য সব দেশের মতো এখানেও বর্ণ বাদ আছে আর আছে বৈষম্য ।
কিন্তু পরিবর্তন আরম্ভ হয় ২০১৯ সালে কেভিন রাড  (Kvin Rudd) সময় থেকে ।
কারন একটা ভাষণে তিনি বলেছিলেন “অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পরিচয়ের সংজ্ঞা হতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক সমাজের আদর্শ ,প্রতিস্থান,আর রীতিনীতির উপর ভিত্তি করে। জাতিগত গঠনের উপরে নয়”  ।
দেশটা এখনো বাইরের মানুষের জন্য আকর্ষণীয় । অভিবাসি,শ্রমিক আর শরণার্থি সবার কাছেই। এতোটাই জনপ্রিয় যে মানুষ যে কোন উপায়ে এখানে আসতে মরিয়া। তাই এই শতাব্দীতে সরকারগুলো অবৈধভাবে ঢোকা বন্ধ করতে কঠোর আইন করেছে।
২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনী শরণার্থী ার অভিবাসীদের নৌকা আটকানো শুরু করে। নৌকাগুলো হয় ফেরত পাঠানো হয় না হয় অন্য কোনো  দেশে সরিয়ে দেওয়া হয় ।
অস্ট্রেলিয়ার সংজ্ঞা জাতী দিয়ে নয় গণতন্ত্রের আদর্শ দিয়ে ঠিক হবে। ১৯০১ ছিল শুধু ব্রিটিশ এখন ১৯০ টি দেশের মানুষ । অ্যাংলো -কেলটিক থেকে মালটি কালচারাল  । ২০১৬ সালে ২৬% বিদেশি যার অর্ধেক এশিয়ান ।
১৯৭০=১৯৯০ সালে ভিয়েতনাম আর যূগস্লাভ থেকে শরনার্থি আসতে থাকে । যখন নউযোগে এই সমস্ত দেশ থেকে শরনার্থি আসতে শুরু করে তখন নৌবাহিনী র জাহাজ তাদের দূরের দ্বীপ Nauru আর manus এ পাঠিয়ে দায় । এই নীতি ২০০৮ সালে বন্ধ হয়েছিল । কিন্তু ১৯১২ সালে আবার চালু হয়। তারপরে ৩০০০ এর বেশি মানুষ কে আটক রাখা হয়েছে ।কেউ কেউ নিজের দেশে ফেরত গেছে। আবার কয়েকশ মানুষকে US
তে শরনার্থি হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২০ সালে প্রায় ২৯০ জন দ্বীপের “processing centre” এ ছিল। কিন্তু সেখানে তারা স্থানীয় দের দাঁড়া হিংসাত্মক হামলার শিকার হয়।
মানবাধিকার  কর্মী রা এই নীতি কে ‘আমানবিক আর বেআইনি’ বলেছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ানদের ভোটাধিকার দের কাছে এটা এখনো জনপ্রিয় ,তাই নীতি টি চালু আছে ।
এর ফলে নৌকায় আসা কমেছে কিন্তু বিমানে এসে শরনার্থি হচ্ছে।
‘Down আন্ডার এর এই দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ গুলোর একটি এবং ভবিষ্যতেো থাকবে। কারন এখানে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ আছে । যা সারা পৃথিবীতে বিক্রি করা যায় ।
উল,ভেরা,গরু,গম আর ওয়াইন এ অস্ট্রেলিয়া এখনো বিশ্বসেরা
 এখানে আছে পৃথিবীর ছার ভাগ্যের এক ভাগ ইউরেনিয়াম , সবচেয়ে বড় জিঙ্ক আর লিড এর খনি। আর আছে tungsten,gold আর সিলভার এর খনি।
সাথে আছে প্রাকৃতিক গ্যাস । এবং প্রচুর কয়লা ।আর এখানেই পরেছে দেশটা Ayers রক এবং হার্দ প্লেস এ র মধ্যে ।
অস্ট্রেলিয়া ভালো করেই জানে ফসিল ফুয়েল মানে কয়লা,তেল,গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তন করছে। ২০১৯-২০ সালে ভয়াবহ দাবানলের পেছনে গ্লোবাল ওয়ারমিং  এর বড় কারন ছিল যেটা
অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ তাপমাত্রা একটা বিপদজনক সমস্যা। ২০-১৯-২০ সালের ভয়াবহ দাবানল ,রেকর্ড তাপমাত্রা, আর পানির অভাব দেশটার একটা বড় সমস্যা।
মানুষ মারা গিয়েছিল এই তাপমাত্রায় কয়েক ডজন , হাজার হাজার কোয়ালা মারা পড়ে, তার সাথে হাজার হাজার প্রাণী । আগুণ সহর পর্যন্ত না পৌঁছালেও এর ধোঁয়ায় আকাশ ঢাকে গিয়েছিল । নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত চলে গিয়েছিল ধোঁয়া । সহরের গাছ পালা ঢেকে গিয়েছিল ছাই দিয়ে। রাজধানীর বাতাসের মান সবচেয়ে খারাপ হয়ে গিয়েছিল পৃথিবীর মধ্যে।
২০২০ সালের  ৪র্থ জানুয়ারি সিডনির তাপমাত্রা হয়েছিলো ৪৮.৯ ডিগ্রি সেন্টি গ্রেট ।
এমন অবস্থায় কে বাঁচতে পারে?
এখন অস্ট্রেলিয়ার লোক সংখ্যা ২.৫ কোটি মানুষ। অস্ট্রেলিয়ান আউস্ত্রালিয়ান Bureau of Statistics এর হিসেব মতে ২০৬০ সালে মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়ে যাবে ৪ কোটি । ক্লাইমেট
চেঞ্জে এর মডেল ঠিক থাকলে অস্ট্রেলিয়াযার  heat wave
খরা, আর দাবানলের স্বীকার হবে। যার ফলে দেশ তা পুড়ে যাওয়া এবং দেশটায় বসবাসের অযোগ্য স্থানে পরিণত হবে। সহরের সহর তলি জোত গ্রামের দিকে ছড়াবে ,ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা তত বাড়বে । তার ফলে মানুষ সমুদ্র উপকুলে যাবে এবং সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পেলে মানুষ গুলো সব হারাবে।
দেশকে হয়ত কিছু এলাকা থেকে ধীরে ধীরে আসতে হবে এবং কম ঝুঁকি পুর্ন জায়গায় লম্বা মেয়াদি বিল্ডিং প্লান করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার একটা সম্ভাব্য জ্বালানীর অভাব নাই সেটা হল রোদ । কিন্তু আর একটা অভাব আছে তা হল পানি । নদী গুলো সমতল জায়গা দিয়ে যায় এবং পানির পরিমাণ ওঠানামা করে। তাই জলবিদ্যুৎ করা কঠিন। ব্যাতিক্রম শুধু তাসমানিয়া ।যেখানে ভূমি আর আবহাওয়ার কারনে জলবিদ্যুৎ ভালোই চলছে। পানির সমস্যা আগে থেকেই ছিল ।
অস্ট্রেলিয়ার ভওগলিক অবস্থান এই দেশ কে দুই তানার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া র ইতিহাস আর কালচার ওয়েস্টার্ন বা ইউরোপিয়ান কিন্তু অবস্থান দক্ষিণ পুর্ব এশিয়ায় ।
সে আশিয়ানে যোগ  দিতে  পারছে না কারন অস্ট্রেলিয়া তাদের কলোনি করেছিল তাই সন্মানিতি কিন্তু তাদের ভালবাসার নয়।
কারন এক সময় অস্ট্রেলিয়া এই সমস্ত দেশ গুলো থেকে আগত মানুষ গুলোকে প্রবেশ করতে দায়নি । এটা তাদের মনে আঘাত দিয়েছে এবং ক্ষতের  সৃষ্টি করেছে যা তারা কোন দিন ভুলতে পারবে না। দ্বিতীয়ত আশপাশের দেশ গুলোতে সে বিপদে সাহায্য করে কিন্তু তার বদলে তারা অস্ট্রেলিয়ার ‘দাদা গিরি পছন্দ করে না। এক দিকে সে বলবে আমি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অঞ্চলে আবার Ally , USA বা ইউরোপের দেশ গুলোর । যখন তখন  AUKUS , QUAD গুপ্তচর পাঠিয়ে দায় তাদের হয়ে ।
সন্মান করে শক্তির জন্য। ভয়ও পায় ,তাই ভালবাসা আসে না ।
পানির সমস্যা অস্ট্রেলিয়ার বড় সমস্যা । দেশকে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে।
আর সেই আলোচনায় কয়লা নিয়ে আলোচনাও থাকবে। কারন সব জায়গায় কয়লার খনি আছে। আর এই AU ৳৬৯.৬ বিলিয়ন এর শিল্পে কয়েক হাজার মানুষ কাজ করে। তাই এটা সহজ হবে না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে স্কট মরিসন পার্লামেন্টে একটা বড় কয়লার টুকরো হাতে নিয়ে হইচই ফেলে ছিল । তিনি বলেছিলেন ভয় পেওনা এটা একটি বড় কয়লার টুকরা।
অস্ট্রেলিয়া যদি কালকেই কয়লা শিল্প বন্ধ করে দায় তবুও বিশ্ব দূষণ কমবে না। কারন এটা এমন একটি সমস্য যে সব দেশ এক সাথে কাজ না করলে সমস্যা দূর হবে না। তাই বিকল্প জ্বালানীর কথা ভাবলে কয়লা আগামী অনেক বছর রাজা হয়েই থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য জ্বালানীর জোগান একটা বড় চিন্তা। আর দেশের ভূগোল আর অবস্থানের কারনে এটা সরাসরি নিরাপত্তার সাথে জড়িত ।
অর্থনৈতিক ভাবে ,আধুনিক অস্ট্রেলিয়া তাঁর অবস্থানের সাথে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ছে ।
রাজনীতিবিদ রা বলে তারা এশিয়া -প্যাসিফিক কমুইনিটি এর অংশ । কিন্তু এশিয়ার দেশ গুলো তাদের নিজেদের লোক ভাবে সেই বিতর্ক এড়িয়ে যায় ।
তার কাছের বিদেশ মানে নিকতবর্তী এলাকার অস্ট্রেলিয়া পশ্চিমের মিত্র হেসেবে বড় শক্তি। সবাই সন্মান করে কিন্তু ভালবাসে না। কপুসল্গত ভাবে ,অস্ট্রেলিয়ার নজর বেশি উত্তর আর পুর্বে । প্রথম প্রতিরক্ষা লাইন ঃ সাউথ চাইনা সমুদ্র। তাঁর নিছে ফিলিপাইন আর ইন্দোনেশিয়ান দ্বীপ পুঞ্জ তারপর ফিজি, ভানুয়াটু, এবং সাউথ প্যাসিফিক এর দ্বীপগুলো ।
মোট কিছু   পয়েন্ট ১) কয়লার দ্বিধা ২) দেশের ভূগোলের কারনে নিরাপত্তার ব্যাপার ৩) অস্ট্রেলিয়ার পরিচয় সংকট ৪) এশিয়ার দেশ গুলো তাকে আপন ভাবে না। ৫) চীন শক্তিশালী হচ্ছে তাই এই এলাকা গুলো অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্ব পুর্ন ।৬)  সাদা দেশ কিন্তু এশিয়ান পাড়া । ৭) ইন্দোনেশিয়া মালইএসিয়া আর চীনের কাছে “এশিয়ায় বসে থাকা একটা ওয়েস্টার্ন ফাঁড়ি । নিজের আশপাশে এই সাবেক কলোনি আর মিত্র দেশটি হল সবচেয়ে বড় শক্তি । সেখানে তাকে সন্মান করা হয় কিন্তু ভালবাসা হয় না। সে হয় মিত্র হবে না হয় শত্রু ।
অস্ট্রেলিয়া কে আক্রমণ করা নিয়ে এই দেশটির বেশ কিছু সুবিধা আছেঃ েকে আক্রমণ করা কঠিন -অসম্ভব নয় কিন্তু কঠিন। কার্বন যে কোন আক্রমণ কারী বাহিনী কে সমুদ্র ব্যাবহার করে এবং স্থল আক্রমণ আক্রমণ করতে হবে। আর অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব এবং উত্তরে যে দ্বীপগুলো আছে সে গুগুলোর কারনে আক্রমণের সম্ভাব্য রাস্তা খুব সরু ।
শত্রু সৈন্য একবার তীরে নামলেও পুরো মহাদেশ দখল করা সম্ভব হবে না । গুরুত্ব পুর্ন জায়গা গুলো শক্ত ভাবে রক্ষা করতে হবে। যদি তাড়া নর্দান টেরিটরিতে নামে তবে সেটা হবে সিডনি থেকে অনেক দূরে প্রায় ৩,২০০ কিমি দূরে। সেখানে যাওয়া তাই কঠিন হবে। আর খাবার আর অস্ত্র সরবরাহের লাইন  সেটা বিরাট কঠিন ব্যাপার ।
Malacca Strait হল ইন্ডিয়ান অস্যান থেকে প্যাসেফিক এ  যাওয়ার সবচেয়ে ছোট রাস্তা । শুধু এই একটি রাস্তা দিয়েই বছরে ৮০,০০০ জাহাজ যায় । এটা দিয়ে পৃথিবীর ১/৩ ব্যবসা আর নর্থ ইস্ট এশিয়ার ৮০% তেল যায় । এই রাস্তা গুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প রাস্তা খুঁজতে হবে। যেমন জাপান এ তেল নেওয়া ট্যাঙ্ক গুলোকে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর দিক দিয়ে ,পাপুয়া নিউ গিনি এর পাশ দিয়ে ঘুরে প্রশান্ত মহাসাগরে জেতে হবে। এতে খরচ অনেক বাড়বে ,কিন্তু জাপানের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসা অনেক বাড়বে। যদি সফল ভাবে অবরোধ হয় ,তাহলে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত এনার্জি ক্রাইসিস এ পড়বে । তাদের কাছে মাতির নিচে মাত্র দুই মাস্যার তেল মজুদ আছে। আর জাহাজে আরও দুই সপ্তাহের তেল আছে। ২০২০ সালে টেলের দাম কমে যাওয়াই  ক্যানবেরা অতিরিক্ত কিছু তেল কিনে USA তে Strategic Petroleum Reserve এ রেখেছিল । কিন্তু দরকারের সময় সেটা হাতে পাবে কিনা সন্দেহ। ভূগোলের শিক্ষাঃ আক্রমণ থেকে নিরাপদ ,কিন্তু ব্যবসা বন্ধ করলে দেশ ২ মাস অচল । সামারিঃ অস্ট্রেলিয়া আক্রমণ করা কঠিন ,কিন্তু মালাকা strait বন্ধ করলে দুই মাসের  মধ্যে তেল শেষ হয়ে এনার্জি ক্রাইসিস এ পড়বে। অস্ট্রেলিয়ার “মধ্যম ধরনের আর্থিক অবস্থা অস্ট্রেলিয়া চীন আর USA এর মতো সুপার পাওয়ার না হওয়াতে টাকার অভাবে সব স্থান পাহারা দিতে পারে না। অস্ট্রেলিয়া বিশাল কিন্তু জন সংখা কম ।তাই ৫৯,০০০ কিমি. উপকূল পাহারা দিতে পারে না। তাই “Forward Defence” দরকার নুতুন অস্ত্র , তাই  USA এর সাথে বন্ধুত্ব দরকার । নিজে একা পারবে না তাই USA ,জাপান, আর
ইন্ডিয়া র মতো বড় শক্তির সাথে মিত্র করতে চায় ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশল কৌশল ভাবে এই পরিস্থিতির উপর ফোকাস করা তাদের কাছে জাহাজ আর সাবমেরিন আছে যা কনভয় মানে জাহাজের বহর রক্ষা করতে পারে। আর আছে লম্বা রেঞ্জের মারিতাইম প্যাত্রল মানে সমুদ্রে টহল দেয়াড় প্লেন । ২৬ ২৬ থ parallet
এর উত্তরে তাদের ৬তা এয়ার ফর্স বেশ আছে। ৩ তা সব সময় চালু ,আর ৩তা জরুরী সময়ের জন্য বন্ধ রাখা। ২৬থ parallet
এর হল মহাদেশ কে উত্তর দক্ষিণে ভাগ করা লাইন । এটা ব্রিসবানে এর 100km উত্তরে -দক্ষিণে বাগ করা লাইন। এটা বিশ্ববরেণ্য এর ১০০কি মি উত্তর থেকে শুরু হয়ে ইন্দিয়ান অস্যান এর সার্ক বে পর্যন্ত গেছে । এই লাইনের উপরে অস্ট্রেলিয়ার মাত্র ১০% মানুষ থাকে। একটা তত্ত্ব আছে, কখনো সরকার স্বীকার করে না ,যে উত্তর দিক থেকে আক্রমণ করলে এই ১০% এলাকা ছেরে দেওয়া হবে। কার্বন সেনাবাহিনী মূল সহর গুলো রক্ষা করবে। কিন্তু এটা  শেষ উপায়। সরকার এটা এরাতে চায় “ফরওয়ার্ড ডিফেন্স ‘ এর মাধ্যমে। -মানে শত্রু আসার আগেই উত্তরে আয়ারবাস আর নেভি দিয়ে আটকানো কিন্তু সমস্যা হলো দেশের বিশাল আকার ,কম জনসংখ্যা আর মাঝারি সম্পদ । এই কারনে অস্ট্রেলিয়া এতো বড় নৌবাহিনী বানাতে পারবে না। যেটা তাদের পুরো সমুদ্র সীমা রক্ষা করতে পারবে। শুধু কাছে সমুদ্রে টহল দেওয়া  চ্যালেঞ্জ ।
মূল ভূখণ্ডের উপকূল লাইন ৩৫,০০০কিমি আর দ্বীপের উপকূল সীমানা আরও ২৪,০০০ কিমি। এতবর এলাকা পাহারা দেওয়া কঠিন।
রয়াল অস্ট্রেলিয়া এয়ারফর্স এখন F-35A ফাইটার জেট কিনেছে। এগুলো দেশের উপকূল রক্ষায় কাজে লাগবে।
কিন্তু চাইনার নতুন লঙ রেঞ্জ আর হাইপারসনিক মিসাইল এর হুমকির তুলনায় তাড়া কয়েক বছর পিছিয়ে আছে। এর জবাবে এয়ার ফোর্স একটা স্পেস ডিভিশনও  বানাচ্ছে। হুমকি ঠেকাতে সরকার নৌবাহিনীতেও অনেক তাকা ঢালছে। আর ডিপ্লোম্যাসি মানে কূটনীতির উপর জোর  দিচ্ছে ,মিত্র বেঁচে নিচ্ছে সাবধানে। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা ঃ বিশাল উপকূল লাইন সীমা। জনসংখ্যা কম আর তাকা মাঝারি । তাই পুরাটা পাহারা দেওয়া সমস্যা বা অসম্ভব । নিজে একা পারবে না তাই USA জাপান, ইন্ডিয়ার মতো  শক্তিশালী দেশের সাথে সম্পর্ক রাখা দরকার ।
অনুবাদ ঃ পাওয়ার অফ জিওগ্রাফী